শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১৪

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত বাংলাদেশের শিশু আদালত

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দী শিশুদের মাঝে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের শিশু আদালতের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। প্রচলিত আদালত বন্ধ থাকার পরও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শিশুদের জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ এবং তাদের জামিন দেওয়ার খবর গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি), ফক্স-৫সহ আন্তর্জাতিক বিখ্যাত গণমাধ্যমগুলোয়। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছেন, দেশে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৩৫ কার্যদিবসে ৬০৮ শিশুকে জামিন দেওয়া হয়েছে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ৫৮৯ শিশুর মধ্যে ৫৮৩ জনকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় শিশুকেও পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানান, করোনাভাইরাস-উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দী শিশুদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস। কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় শিশু আদালতের বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। শিশুদের পুরো সুরক্ষার বিষয়টি দেখভাল করছে এ কমিটি। পাশাপাশি ভার্চুয়াল কোর্টের বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে আসছে জাতিসংঘের শিশু উন্নয়ন সংস্থা-ইউনিসেফ। বর্তমানে দেশের আদালতগুলোয় ২৩ হাজার শিশুসংক্রান্ত মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেন, করোনাভাইরাসের মতো এমন মহামারীর মধ্যে শিশুদের আটকে রাখার সুযোগ নেই। তাই ভার্চুয়াল শিশু আদালতের মাধ্যমে শিশুদের জামিনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শিশু আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করায় আন্তর্জাতিক মহল থেকেও আমরা অনেক প্রশংসা পেয়েছি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আমাদের ভার্চুয়াল শিশু আদালতের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এম এম মাহমুদুল্লাহ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যায়। ভার্চুয়াল আদালত চালু হয় ১১ মে। এর পরদিন শিশুদের জামিন দেওয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত আমাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ৫৮৯ শিশু জামিন পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৮৩ শিশু পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। বাকি ছয় শিশুকেও পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৫৩০, কোনাবাড়ী (বালিকা) শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৮১ ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ২৩৩ শিশু অবস্থান করছে বলে জানান তিনি। ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাহনাজ জাহেরীন বলেন, বাংলাদেশের ভার্চুয়াল শিশু আদালত অনেক ভালো একটি উদ্যোগ। এমন একটি আদালতের বিষয়ে আমরা অনেক দিন ধরেই সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনায় ছিলাম। করোনা পরিস্থিতি আমাদের এ কাজটা সহজ করে দিয়েছে। আমরা বিচারক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টও দিয়েছি।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর