বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৫ ১৪২৭   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৩৯৪

আমাদের লাজুক বানিয়ে রাখা হয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০১৯  

তাঁর মুখ হাজারো গল্প বলে। তাঁর কণ্ঠ রুবাইয়াতের প্রেমকেও হার মানায়। তাঁর আবেদন হাজারো চিত্রকর্মের মোহময়তাকে ছাড়িয়ে যায়। মেধা তাঁকে নিয়ে গেছে তুঙ্গস্পর্শী এক উচ্চতায়। ২০০৫ সালে ‘পরিণীতা’ দিয়ে শুরু করা বিদ্যা বালান এখন সেই নারীদের অন্যতম, যাঁরা বলিউডকে সাহসী করেছেন। যাঁদের কারণে বদলে গেছে বলিউডি ছবির দৃশ্যপট। পুরুষের বদলে প্রযোজকেরা আস্থা রাখতে শিখেছেন নারী শিল্পীদের ওপর। এ বছর চল্লিশে পা রেখেছেন বিদ্যা বালান। এখনো তুমুল উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন বলিউডে। সম্প্রতি ফিল্মফেয়ার প্রকাশ করেছেন বিদ্যা বালানের এই সাক্ষাৎকার। 

চল্লিশ হয়ে গেল। প্রাপ্তির ঝুড়িতে আর কী কী যোগ করতে চান? 
আমার কোনো ঝুড়ি নেই। ঈশ্বরের কৃপায় যখন যা দরকার সেটা পেয়েছি। বাবা-মা আমাকে স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমার বোন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন। আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো লক্ষ্য আমার কখনোই ছিল না। আমি কেবল নিকট-ভবিষ্যতের কথাই ভেবেছি। এ কারণেই আমি সুখে আছি। এমনকি অভিনয় করতে এসেও মনে হয়নি যে আমাকে তারকা হতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমি কেবলই সিনেমায় কাজ করতে চেয়েছি। অবশ্য গুলজার সাহেবের সঙ্গে কাজ করার সাধ ছিল। কিন্তু তিনি তো আর এখন পরিচালনা করেন না। অনেকবার নির্লজ্জের মতো বলেছি, আমাকে নিয়ে অন্তত একটা বিজ্ঞাপনচিত্র করেন। আর হ্যাঁ, উডি অ্যালেনের সঙ্গেও কাজ করার ইচ্ছা ছিল।

‘দ্য ডার্টি পিকচার’ এবং ‘কাহানি’ প্রথম নারী চরিত্রকেন্দ্রিক ছবি যেগুলো শতকোটি টাকা আয় করেছিল। এটা কি কোনো অর্জন নয়? 
অর্জনটা আমার নয়। আমি বলিনি যে আমি প্রথম নারী চরিত্রকেন্দ্রিক সফল ছবির নায়িকা হতে চাই। ঘটনাটি ঘটে গেছে। আর যা করেছি তা মন চেয়েছে বলেই করেছি। সব সময় নিজের মন যা চেয়েছে, সেটাই করেছি। একজন অভিনয়শিল্পী হওয়ার জন্য কী করেছি আমি? অভিনয়ের ক্লাস করিনি, কোনো ফটোশুট করিনি, কারও অফিসে গিয়ে নিজের ছবি দিয়ে আসিনি। কাজ আমার কাছে চলে এসেছে। বহু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। বন্ধুরা অনেক ছোট ছোট ফিল্ম করেছে, আমাকে বলতেই রাজি হয়ে যেতাম। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের জন্য অনেক কাজ করেছি, কণ্ঠ দিয়েছি। অনেক ব্যাংকের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়েছি। এ রকম কোনো সুযোগই আমি হাতছাড়া করিনি। কিন্তু সব সময় যেটা হতো, কারও কাছে কাজ চাইতে পারতাম না। এই ইন্ডাস্ট্রিকে আমার নিজের মনে হতো না। শুনেছি জায়গাটা নাকি হিংস্র লোকে ভরা। আমি নিজেকে নিরাপদ রাখতে চেয়েছি।

এখন কি নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির অংশ মনে করেন? 
হ্যাঁ। আগের চেয়ে অনেকটা করি। আসলে এসব হয়েছিল কারণ নিজেকে বাইরের লোক মনে হতো বলে। সম্প্রতি ভাবনাটা পরিবর্তিত হয়েছে। ‘পরিণীতা’ ছবিটা দিয়ে শুরু করেছিলাম। সফল হয়েছিল ছবিটা। পরে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’। এরপর অবশ্য একটু মন্দা সময় আসে। ভেবে অবাক হচ্ছিলাম যে আমি কি একজন সফল শিল্পী নাকি সাফল্যটুকু ছিল অপ্রত্যাশিত। পরে দেখলাম কপাল খুলে যাচ্ছে। যদিও খুব সমালোচনার শিকার হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। পরে আমার ছবি দেখলাম ভালো করতে শুরু করল। তখন তো খুশিতে একেবারে আটখানা।

‘তুমহারি সুলু’র মতো? 
এই ছবিটার সাফল্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমি নিরাপদ। ‘হিট’ আর ‘ফ্লপ’ কী জিনিস, বুঝতে শিখেছি। একটা ছবি হিট হয়ে গেল, তার মানে এই নয় যে তুমি সারা জীবনের জন্য হিট। আবার একটা ছবি ফ্লপ মানে তুমি শেষ, তা নয়। আমার ছবি যখন ব্যবসা করতে পারছিল না, আমার পরিবার ভেবেছিল আমার স্বপ্ন বুঝি সার্থক হবে না। সে সময় মা-বাবাই আমার সবচেয়ে শক্তি জুগিয়েছিলেন। অন্যদিকে আমার বোন ও দুলাভাই ছিলেন আমার দ্বিতীয় মা-বাবা। তাঁরা আমাকে আশা জুগিয়েছিলেন। এমনকি সিদ্ধার্থকে বিয়ে করেছিলাম এই একই কারণে। সে আমাকে বুঝতে শিখিয়েছিল, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। আমি বুঝেছিলাম একজন সফল মানুষ সে, যে কিনা বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল ছাড়ে না।

দীপিকা পাড়ুকোন ও আলিয়া ভাটরা এখন নারী চরিত্রনির্ভর শতকোটি টাকার ছবির নায়িকা হয়ে গেছেন, মানেন? 
আমরা বক্তব্যধর্মী কাজ করে এগিয়েছি। এখানে আলিয়া, দীপিকা, কঙ্গনা, সোনাক্ষী, তাপসী...সময় বদলেছে। আমরা সেই সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু দশকের পর দশক কিন্তু মেয়েরা কাজ করে গেছে। তারা শ্রম দিয়েছে, ফিরে গেছে, ফিরে এসেছে, সন্তান জন্ম দিয়েছে, আরও ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছে, সম্মানী বাড়িয়ে নিয়েছে। ঐশ্বরিয়া, রানী, কারিনারা মা হওয়ার পরও ছবি করেছে। নেহা (ধুপিয়া) দ্রুতই ফিরল। সোনম, আনুশকারাও ভালো করছে। আমরা চিত্রটা বদলে দিয়েছি। এটা একজন মানুষের ব্যাপার নয়। এই দলটা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে এবং এতে ক্রমেই মানুষ যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু এখানে একটা বিষয় যোগ করতে চাই।

কী?
আমরা নারীরা কঠোর পরিশ্রম করছি। অথচ সেটা পুরুষের সাহায্য ছাড়া পারছি না। বলতে পারছি না যে কাজটা একাই করেছি। কোথাও না কোথাও বাপ-ভাই, স্বামী-সন্তান থাকছেই। আশপাশে সফল কেউ না-কেউ থাকছেই। আর এই পুরুষেরা সফল হতে পারছে, কারণ তাদের স্ত্রীরা সন্তানদের দেখভাল করতে পারছে। একদিন এই পুরুষদেরও উচিত নারীদের এই সহযোগিতাটুকু করা। দৃশ্যটা ইতিমধ্যে বদলাতে শুরু করেছে।

আপনি কি সমান পারিশ্রমিকের জন্য লড়েছিলেন?
এটা তো আর রাতারাতি বদলে যায়নি। এখন আমরা একটু ভালো অবস্থায় আছি। আমরা প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে এ নিয়ে কাজ করেছি। আমি কীভাবে কাজ করি সেটা পুরুষ শিল্পীর সঙ্গে তুলনা করতে যাব না। আমি কাজ করি আমার মতো পুরোটা দিয়ে। অন্য অভিনেত্রীরা, যারা বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করে, তারা ভালো বলতে পারবে। কিন্তু এই মেয়েগুলো কি আরও সম্মানী চাইতে পারে না? তারা পাচ্ছে না? অবশ্যই পাচ্ছে। কিন্তু অন্য অনেক বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। যেমন, যে লোকটা কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করছে, যাকে দেখিয়ে প্রযোজকেরা ব্যবসা করছে, তাকে বেশি টাকা দেবে না? আমরা মেয়েরা যখন নিজেকে প্রমাণ করতে পারব, তখন আমরাও আমাদের প্রাপ্য সম্মানী পাব।

লোকে বলে, চল্লিশে পড়লে নারী নাকি আরও আবেদনময়ী হয়ে ওঠে? 
হ্যাঁ। চল্লিশের পরে নারী অপ্রতিরোধ্য ও আবেদময়ী হয়ে ওঠে। আসলে আমাদের লাজুক বানিয়ে রাখা হয়, আমরা যৌনজীবনটা ঠিকমতো যাপন করতে পারি না। বয়স বাড়লে নারীর আবেদন বাড়ে কথা বলার কারণ হচ্ছে, এ সময়ে তারা অনেক কিছুই আর পাত্তা দেয় না। সে নিজের প্রতি যত্নশীল হয়, জীবন আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। যখন কেউ আশপাশের কোনো কিছুকে পাত্তা দেয় না, তখন তার আনন্দের সীমা থাকে না। মুখ ফসকে এক বন্ধু একবার বলে বসেছিল যে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নারীরাই নাকি সবচেয়ে ভালো। কারণ, তখন আর তারা কোনো সম্পর্ক পাতাতে চায় না। কারণ পঁয়ত্রিশের পর সে আর ওসবকে পাত্তা দেয় না। অর্থাৎ, চল্লিশে আরও পাত্তা দেয় না।

তাহলে আপনি কী কী দুষ্টুমি করবেন বলে ঠিক করলেন? 
আমি আসলে উল্টো। গম্ভীর একটা মানুষ ছিলাম আমি। এখন অবশ্য সবকিছুকে উপভোগ করতে চাইছি। নিজের কাঁধে কোনো বোঝাকেই এখন আর বোঝা মনে করি না।

জীবনের পর্যায়গুলো থেকে কী শিখলেন? 
বিশ বছরে নিজের স্বপ্নগুলো নিয়ে থাকতে চেয়েছি। ত্রিশে নিজেকে জানতে শিখেছি। চল্লিশে জীবনকে ভালোবাসতে শিখেছি।

স্বামী সিদ্ধার্থের কোন ব্যাপারটা আপনাকে মেনে নিতে হয়েছে, আর আপনার কোনটা তিনি মেনে নিয়েছেন? 
সে নিজের অনুভূতি কখনোই ভাষায় প্রকাশ করে না। নিজেকে প্রকাশ করাটা তার জন্য ভীষণ কষ্টকর। আর আমি এমন এক মানুষ, যে কিনা সব ঝরঝর করে প্রকাশ করে ফেলি। তার ব্যবহারে অন্তত সেটাই বুঝি। সেটা এখন বুঝতে শুরু করেছি। আগে মনে হতো, আমি যেটা শুনতে চাইছি সেটা বলে না কেন!

কে কার ওপর বেশি অধিকার ফলান? 
দুজনেই। সে দেখায় না। আমি দেখাই।

ঝগড়াঝাঁটির পর কে আগে সামলে নেন? 
আমি। না, আসলে দুজনেই। আমরা ৮ বছর হলো একত্রে থাকতে শুরু করেছি। একটা সময় ছিল, মনে হতো সে এগিয়ে আসুক। আসলে সবাই মনে করে সে একাই সব সময় এগিয়ে আসে। আসলে দুজনেই সমানভাবে সেটা করি।

সিদ্ধার্থের সঙ্গে ছবি করবেন না? 
আমার মনে হয় না সেটা কখনো হবে। তাহলে বাসা আর কর্মক্ষেত্র বলে আলাদা কিছু থাকবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একত্রে কাজ করব না। সেটা দাম্পত্যের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

তিনটি অর্জনের কথা বলুন, নিজের নাতিদের যেটা বলবেন। 
আমি আমার স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে পেরেছি, সব সময় থেকেছি এবং ভালোবেসে সেসব করেছি। সংক্ষেপিত

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর