শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ২ ১৪২৭   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৯১

উপজেলায় বিউটি পার্লার করবে সরকার

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১  

দেশে বিউটি পারলার বা সৌন্দর্যচর্চা সেবাকেন্দ্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলো ছাড়িয়ে জেলা–উপজেলা পর্যায়েও গড়ে উঠছে বিউটি পারলার। সরকারও এই খাতকে বিকশিত করতে চায়। তাই নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য দেশের ৮০টি উপজেলায় বিউটি পারলার স্থাপন করে দেবে।

জানা গেছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ৪৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় বিউটি পারলারের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য ৮০টি ফুড কর্নারও করে দেওয়া হবে। নির্বাচিত ৮০টি উপজেলায় নারীদের জন্য স্থাপন করা হবে বিক্রয় ও প্রদর্শনীকেন্দ্র।

যেসব নারী জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ নেবেন, তাঁদেরকেই বিউটি পারলার, ফুড কর্নার ও বিক্রয়কেন্দ্র করে দেওয়া হবে। ৫ থেকে ১০ জন মিলে একেকটি বিউটি পারলার পরিচালনা করবেন। একই পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে ফুড কর্নার ও বিক্রয়কেন্দ্র। তাঁদের এককালীন টাকা দেবে সরকার। একই সঙ্গে বিউটি পারলার সাজাতে যেসব উপকরণ প্রয়োজন হয়, সেসবও সরবরাহ করা হবে। তবে বিউটি পারলার, ফুড কর্নার এবং বিক্রয় ও প্রদর্শনীকেন্দ্র ভাড়া নিতে হবে নারী উদ্যোক্তাদের।

পরীক্ষামূলকভাবে দেশে ১৪টি বিউটি পারলার স্থাপন করে সফলতা পাওয়ার পর নতুন করে আরও ৮০টি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রকল্প তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক কম। তাই আমরা কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে চাই। একজন নারী যাতে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, সে জন্য আমরা তাঁকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য বলছে, এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ থেকে ২ লাখ ৫৬ হাজার নারী বাছাই করে তাঁদের ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিদিন একজন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে দেড় শ টাকা করে দেওয়া হবে। কারা দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পাবেন, তার মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির কম পড়ালেখা এমন কেউ এই প্রশিক্ষণ পাবেন না। এসএসসি ও এইচএসসি পাস অনেক নারী এই সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হাসিনা নেওয়াজ বলেন, বিউটি পারলার ও ফুড কর্নার দেশে বেশ জনপ্রিয়। তবে বিউটি পারলারে নারীদের অংশগ্রহণ যতটা, ফুড কর্নারে ততটা নয়। সরকার যদি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিউটি পারলার ও ফুড কর্নার করে দেয়, সেটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু বিউটি পারলার ও ফুড কর্নার করে দিলেই হবে না, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। কারণ, নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংকে যাতায়াত নেই। তাই তাঁদের পক্ষে ঋণ পাওয়া কঠিন।

অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারা বেগমও বলছেন, ব্যবসা করতে গিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানিতে পড়তে হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে সমস্যা হয়। অনেকে পণ্য বিপণনের পদ্ধতি জানেন না। অনেকে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের পদ্ধতিও জানেন না। প্রশিক্ষণে এসব বিষয় শেখানো হবে।

জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নেওয়া প্রকল্পে ইতিবাচক ফল মিলেছে। আগে জেলা পর্যায়ে সরকারের এই কার্যক্রম থাকলেও সেটি এখন উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র নারীরাও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের আলোকে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এমন ৮০টি উপজেলা বাছাই করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। এর মধ্যে কয়েকটি হলো ঢাকার সাভার, মানিকগঞ্জের ঘিওর, নরসিংদীর রায়পুরা, গাজীপুরের কালিগঞ্জ ও নীলফামারীর ডিমলা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় আট কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ, শিক্ষা ভ্রমণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতে। চলমান করোনার অতিমারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ খাতে আট কোটি টাকা বাদ দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে হলে বিদেশ ভ্রমণ করা যেতে পারে বলে মনে করে কমিশন।

এদিকে জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য বলছে, নতুন নেওয়া প্রকল্পটির আওতায় নারী উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বিপণন করতে পারেন, সে জন্য একটি ক্রয়–বিক্রয় সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কতসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, প্রকল্পটির আওতায় এর একটি ডেটাবেইস সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। তবে এ প্রকল্পের আওতায় সুবিধাবঞ্চিত এবং নারী উদ্যোক্তা বাছাইয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া যাতে অনুসরণ করা হয়, সেই তাগিদ দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর