রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ৪ ১৪২৭   ০২ সফর ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
২৭৮

ওসি প্রদীপের অপকর্মের ক্ষুদ্র পরিসংখ্যান !

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২০  

টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অনেকবার চাঁদাবাজি, স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ, ইয়াবার নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি, মিথ্যা মাদক মামলায় ধনীদের ফাঁসিয়ে কোটি টাকা ঘুষ নেয়া সহ অগণিত অভিযোগ রয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত আলোচিত কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো:

১. কোতোয়ালীর এসআই থাকাকালে পাথরঘাটায় এক হিন্দু বিধবা মহিলার জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। এমনকি তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ এলাকায় নিজের বোনের জমি দখলের অভিযোগও বাদ যায়নি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে পার পেয়ে যান প্রদীপ কুমার দাশ।

২. ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা একটি বিদেশি জাহাজকে তেল সরবরাহে বাধা, বার্জ আটক এবং ১৮ দিন পর বার্জ মালিকসহ ১২ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা নেয়ার ঘটনায় ফেঁসে যান তৎকালীন পতেঙ্গা থানার ওসি প্রদীপ। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় হয়। বিষয়টি পুলিশ সদর দফতর ও তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ওসি প্রদীপকে পতেঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

৩. বরখাস্ত হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় সুপার রিফাইনারির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দশ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে প্রদীপ। এ ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে হয়রানির অভিযোগ করেন সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বায়েজিদ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দফতর।

৪. ওসি প্রদীপের একটি মামলায় রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করায় ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি এক আইনজীবীকে লালদীঘির পাড় থেকে ধরে নিয়ে থানায় আটকে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের শিকার ওই আইনজীবী সুস্থ হয়ে ২৯ জানুয়ারি আদালতে পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ওসি তদন্ত আজিজ আহমেদ, এসআই মাসুদ পারভেজসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওসি প্রদীপের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবে না।

৫. ২০১৩ সালের ২৪ মে পাঁচলাইশ থানার পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে শিবির আখ্যা দিয়ে ৪০ শিক্ষার্থীকে আটকের ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের তোপের মুখে পড়েন ওসি প্রদীপ। সে সময় ওসি প্রদীপের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা ওসিকে লাঞ্ছিত করে।

৬. পাঁচলাইশে ওসি থাকাকালীন বাদুরতলা এলাকায় এক বয়োবৃদ্ধাকে রাজপথে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ব্যাপক সমালোচিত হন ওসি প্রদীপ। এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে টনক নড়ে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ৫৪ ধারা, সিএমপি অ্যাক্ট-৮৮ ধারাসহ বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতারের পর রিমান্ডে এনে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বহু অভিযোগ ওঠে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে বিভাগীয় তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট তাকে পাঁচলাইশ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর