মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭   ১১ সফর ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১৯৪

কালেমা পড়, এবার তুই শেষ: ফরিদুল মোস্তফাকে প্রদীপ

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সাবেক ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) প্রদীপ কুমার দাশের অত্যাচারের স্পষ্ট ছাপ এখনও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায়। তার অত্যাচারে মৃত্যুবরণ করার পাশাপাশি মৃত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে এসেছেন অনেকে। তার ওপর ক্রসফায়ার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তো রয়েছেই।

প্রদীপের ক্রস ফায়ারের বন্দুকের নল থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে করা হয় ছয়টি মামলা। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ শেষে অবশেষে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জামিনে মুক্তি পান দৈনিক কক্সবাজার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খান।
এর আগে আরো ৫টি মামলায় জামিন পান এই সাংবাদিক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিসা নিচ্ছেন।
কারামুক্ত হওয়ার পর একটি গণমাধ্যমে ভিডিও সাক্ষাকারে ওসি প্রদীপের লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।

সাক্ষাকারে তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ আমাকে বলে, তুই কালেমা পড়ে নে, তোর সময় শেষ। এরপর আমি ভয়ে কালেমা পড়া শুরু করি। তখন ওসি প্রদীপ আমার বুকে সজোরে লাথি দেয়। এরপর আবার ঘাড় ধরে গাড়িতে তুলে নেয়। আমি মনে মনে ভাবলাম বিপদ কেটে গেছে, এবার মনে হয় কোর্টে সোপর্দ করবে। কিন্তু তারা সেখান থেকে আমাকে আদর্শ বালিকা ফাজিল মাদ্রাসার পর কবিতা চত্বরে নিয়ে যায়। সেই কবিতা চত্বরে সব সময় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়। যেটা প্রদীপ বাহিনীর টর্চার সেল। এখানে নিয়ে ফের আমার ওপর আরেক দফায় নির্যাতন চালানো হয় এবং বন্দুকযুদ্ধে দেওয়ার বিষয়টি বলাবলি করে। কিন্তু ওপরের কোন কর্মকর্তার নির্দেশে তারা শেষ পর্যন্ত ক্রসফায়ার দেয় নি। এতে ওসি প্রদীপ খুব রাগান্বিত হয়ে আমার টর্চার করে।

সাংবাদিক ফরিদুল বলেন, আমার চোখ মুখ বেঁধে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। ওসি প্রদীপও আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তারা আমার দু’চেখে মরিচের গুড়া দেয় পাশাপাশি পিন দিয়ে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা চালায়। প্লাস দিয়ে নখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। হাতে পায়ে এবং মুখে দীর্ঘ সময় মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে আমি ‘পানি পানি’ করে চিকার করতে লাগলাম, তখন ওসি প্রদীপ প্যান্টের চেন খুলে প্রস্রাব এবং বাথরুমের মলমূত্র আমার মুখে লাগিয়ে দেয়। এরপর আধামরা অবস্থায়, আমাকে কয়েকজন মিলে ধরে টেকনাফ মডেল থানার তিন তলায় ঝুলিয়ে রাখে।

ফরিদুল মোস্তফা খান আরও বলেন- টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনও বিরোধ ছিল না। আমি দুই দশক ধরে সাংবাদিকতা করছি। তার আগে আরও অনেকে টেকনাফের ওসি ছিল। সবার সঙ্গেই পেশাগত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নির্মূলের নামে নিজেই মাদক সেবন ও বেপরোয়া মাদকের ব্যবসা করেছে। পাশাপাশি মানুষকে মিথ্যা মাদকের মামলায় ফাঁসিয়েছে, টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়েছে। এলাকার নিরীহ মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, ভিটেবাড়ি উচ্ছেদ করেছে। বড় বড় অপরাধীদের অপরাধকে ছোট দেখানোর জন্য লাখ লাখ টাকা লেনদেন করেছে আবার টাকা না পেলে ছোট অপরাধকে বড় করে মামলা দায়ের করেছে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর