রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৭   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৮২

গোমাতলীর অবহেলিত রাজঘাট গ্রামের নামফলক উম্মোচন

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২০  

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর গোমাতলীর রাজঘাট নামকরনের ফলক আনুষ্টানিকভাবে উম্মোচন করা হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বর্তমানে কক্সবাজার লিংকরোডে বসবাসরত রাজঘাট নামকরনের উদ্দোক্তা আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে রবিবার(২৫ অক্টোবর) দুপুরের রাজঘাট নামফলক উম্মোচন করেন স্থানীয়রা।

এসময় গোমাতলী সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির সাবেক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ ইউছুফ, মুক্তিযোদ্ধা আমির হামজা,পোকখালী ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগ সাধারন সম্পাদক নুরুল হুদা সওদাগর,নুরুল আজিম, ব্যাংকার রেজাউল হক,আবদুল করিমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উদ্দোক্তা আবদুল মান্নানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ২ যুগ পুর্বে গোমাতলীর এ জনপদকে রাজঘাট নামকরন করেন।

তাঁর মতে, লবণ চিংড়ি জোন খ্যাত এ গ্রামে রয়েছে ৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুষ্ক মৌসুমে লবণ ও বর্ষাকালে চিংড়িসহ পাঁচমিশালী মাছের সমাহারে মাতোয়ারা এ গ্রাম। স্বর্নিভর এ গ্রামে শ্রমিকদের গায়ের ঘামে ফুটে উঠে কষ্টার্জিত ফসল। চিংড়ি-লবণ সরবরাহের একমাত্র রাজকীয় ঘাট রাজঘাট। নামফলক উম্মোচন শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন রাজঘাট জামে মসজিদের ইমাম।

জানা গেছে, সদরের পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীর রাজঘাট গ্রামটি সবদিক থেকেই বঞ্চিত। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ লবণ ও মৎস্য কাজের সাথে সম্পৃক্ত। স্বাধীনতার পর থেকে রাজঘাট গ্রামের দুদর্শা চিরায়ত অভিশাপ। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এ গ্রামের শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার অভাব পরিলক্ষিত।

বর্তমানে পোকখালী ইউনিয়নের তথা গোমাতলী রাজঘাটে নেই কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্যান্য স্থানের মতো এ গ্রামও চিকিৎসার ব্যাপারে নির্ভরশীল ঈদগাঁহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপর।

উত্তর গোমাতলীতে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য এই গ্রামের শিক্ষার্থীদের আসতে হয় গোমাতলী, পোকখালী ও ঈদগাঁহ হাই স্কুলে। বাজারের ক্ষেত্রেও তারা ঈদগাঁহ বাজারের উপর নির্ভরশীল। ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর পর থেকে এ গ্রামটি পোকখালী ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিনত হয়েছে। এ গ্রামের মানুষকে এখন ইসলামপুর ইউনিয়ন ডিঙ্গিয়ে ঈদগাঁহ বাজার ও সদরে আসতে হয়। আর ফিরতে হবে ঈদগাঁহ- ইসলামাবাদ ইউনিয়ন ঘুরে। ঈদগাঁহ-গোমাতলী সড়কের মাত্র দেড় কিঃমিঃ (রাজঘাট এলাকা) সড়ক নির্মান না করার কারনে একটি জনপদ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে চরম বিপর্যস্থ এ গ্রামের মানুষ।

এই অবস্থায় স্থানীয় মুরব্বী আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে সেখানে রাজঘাট নামফলক উম্মোচন এ দুর্ভাগা গ্রামটির জন্য বড় আশির্বাদ বলে মনে করেন গ্রামবাসী।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর