শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৬৫

চকরিয়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের মৃত জেব্রা ও কুমিরের কঙ্কাল তৈরী

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

করোনার কারণে প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রথম প্রতিষ্টিত চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। আর এই ফাঁকে মিউজিয়ামে সংরক্ষণে জন্য তৈরী করা হয়েছে জেব্রা ও কুমিরের স্কেলেটিং অর্থাৎ কঙ্কাল।

ইতোমধ্যে এই দুটি প্রাণীর কঙ্কাল তৈরীর কাজ শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। যাতে পার্কে আগত দর্শনার্থী ছাড়াও শিক্ষার্থীরাও তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।

পার্ক সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি জেব্রা আনা হয়। পরে ওই জেব্রাটি ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের জন্য দেয়া হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে পার্কের একটি বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যায় জেব্রাটি। ময়নাতদন্ত শেষে পার্কে মাটিতে পুতিয়ে রাখা হয় জেব্রাটিকে। ছয় মাস পর মাটি থেকে ওই জেব্রার হাঁড়গুড়গুলো তুলে পানিতে পরিস্কার করে রোদে শুকিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

অনুরুপভাবে, ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাস ক্রোকডাইল ব্যাংক থেকে ১০ ফিট লম্বা ও আড়াই মিটার উচ্চতার একটি মিটা পানির কুমির আনা হয়। পরে ওই কুমিরটি ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দেয়া হয়। ২০১৮ সালের বার্ধক্যজনিত কারণে ওই কুমিরটিও মারা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কুমিরটিকে মাটিতে পুতে ফেলা হয়। ছয় মাস পর কুমিরের মৃতদেহ মাটি থেকে তুলে তার হাঁড়গুড়গুলো সংগ্রহ করা হয়। ওইসব হাঁড়গুড় পানিতে ধুয়ে ও রোধে শুকিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়।

ডুলাহাজারাস্থ সাফারি পার্কের কর্মকর্তা ফরেষ্টার মাজহারুল ইসলাম বলেন, পার্কের মিউজিয়ামে অনেকদিন ধরে জেব্রা ও কুমিরের হাঁড়গুড়গুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখেছি।

কিন্তু সময় ও সুযোগ না হওয়ায় সেটা তৈরী করা যাচ্ছিল না। এই করোনার সুযোগে প্রাণীর দুটির হাঁড়গুড়গুলো দিয়ে কঙ্কাল তৈরী করেছি। এই প্রাণী দুটির কঙ্কাল তৈরীর জন্য কুমিল্লা থেকে একজন কারিগর আনা হয়েছে। দুটি কঙ্কাল তৈরীর করতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের জুনের ৩০ তারিখ কঙ্কাল তৈরী কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ শুক্কুর আলী (৬০)। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দুটি প্রাণীর কঙ্কাল তৈরীর কাজ পুরোপুরি শেষ করেন।

শুক্কুর আলী বলেন, কঙ্কাল তৈরী করতে তেমন কিছু লাগেনা। কিছু আটা জাতীয় দ্রবণ,রং সহ আর কিছু সরঞ্জাম দরকার পড়ে। তবে কঙ্কাল তৈরীর অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে মুল বিষয়। একটা কঙ্কাল তৈরী করতে ২ থেকে ৩দিন সময়ের প্রয়োজন হয়। এধরনের কাজ অনেক করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই কাজ কওে যাচ্ছি। আমার বাবা মৃত সাবু মিয়াও কঙ্কাল তৈরীর কাজ করতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোলোজী ডিপার্টমেন্টের চাকুরী করতেন। মুলত ওনার কাছ থেকেই আমি কাজ শিখেছি।

ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কর্মকর্তা ফরেষ্টার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সদ্য তৈরীকৃত জেব্রা ও কুমিরের কঙ্কাল দুটি পার্কের মিউজিয়ামে আয়নার বক্সেও ভেতর রাখা হবে। এটা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জোলোজী ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদেরও কাজে আসবে।

তিনি আরো বলেন, আরো বেশ কয়েকটি প্রাণীর হাঁড়গুড় সংরক্ষণ করা আছে। এসব প্রাণীর হাঁড়গুড়গুলোও দিয়ে কঙ্কাল তৈরী করা হবে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে পার্কে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর