বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৩ ১৪২৭   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৩৯৮

টানা ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

টানা ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বড়দিনের সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি যোগ করে অনেকেই ছুটে আসেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বালুকাময় সৈকত।

গত বুধবার ভোর থেকে পর্যটকবাহী বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন আসতে থাকে কক্সবাজারে। দুপুরের পর থেকে পুরো শহর ও আশপাশের এলাকা পর্যটক মুখর হয়ে ওঠে। সাড়ে চার শতাধিক হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। সৈকত ছাড়াও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে পর্যটকরা। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পর্যটক হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি নাহিয়ান ও জাকিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে সময় কাটাতে তারা ছুটে এসেছেন কক্সবাজার। পূর্ব থেকেই এক পরিচিত জনের মাধ্যমে রুম বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। এখানে তারা তিন দিন আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন বলে আশা করেন।

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক কষ্ট করে হোটেলের রুম পেয়েছি। পূর্ব থেকে বুকিং না থাকায় কষ্ট পেতে হয়েছে। কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কোন রকম একটি কক্ষ জোগাড় হয়েছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা রনি বলেন, টাকা কোন বিষয় না, কক্সবাজার সৈকতে বসে যে আনন্দ পাচ্ছি তা বলার মত না। সৈকতের এ স্নিগ্ধ কর পরিবেশ আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।

ফরিদপুর থেকে আসা নিরূপণ রায় বলেন, সারাবছর কক্সবাজার আসার চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনভাবেই সময় বের করতে পারেনি, এ বছরের শেষ পর্যায়ে আজকে কক্সবাজার আসলাম পরিবার নিয়ে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনটি দিন এখানে কাটাবো।

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আসা, মোতালেব জানান, খাবার হোটেল গুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

পর্যটকদের উপস্থিতিতে পর্যটনখাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বেশ খুশি। পর্যটকদের সবধরণের সেবা দিতে তাদের প্রস্তুতিও রয়েছে বেশ।

এ বিষয়ে হোটেল দ্য কক্স টুডে এজিএম আবু তালেব শাহ বলেন, কয়েক মাস আগে থেকেই আমাদের হোটেল ২৫ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত বুকিং হয়ে যায়।

হোটেল সিগাল এর অপারেশন অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের হোটেল ছাড়াও কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল আগে থেকে বুকিং হয়ে যায়।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন টুয়াক এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়া বলেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের জাহাজ এর টিকেটসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকরা কয়েক মাস আগে থেকেই আমাদের মাধ্যমে বুকিং দেয়। কক্সবাজারে এখন অনেক পর্যটক। তিনি বলেন,তবে সারা বছর যেন এসব পর্যটকদের ধরে রাখা যায় সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে সকলকে মিলে।

কক্সবাজার শহর ছাড়াও, দুলহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, আদিনাথ মন্দির, ইনানী সৈকত সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে বলে পর্যটন উদ্যোক্তা এম সায়েম ডালিম জানিয়েছেন।

কক্সবাজার রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি কাসিম আলী বলেন, আমরা সব সময় পর্যটকদের সেবা দিতে চাই, কোন খাবার হোটেলে বেশি টাকা চাইলে পর্যটকরা যেন আমাদের জানান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার করা হয়েছে কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলিতে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আলাদা টুরিস্ট পুলিশ থাকার পরও, তাদের পাশাপাশি জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পর্যটন স্পটগুলোর আশপাশে বাড়ানো হয়েছে টহল টিম।

টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, প্রতিটি হোটেলে ও আশপাশের এলাকায় জেলা প্রশাসনের নাম্বার দেয়া হয়েছে। পর্যটক হয়রানি রোধে সৈকত এর আশপাশের এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল থেকে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। সৈকত এলাকায় কর্মীরা কাজ করছে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর