সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১১ ১৪২৭   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৯৮০

ডিপ্রেশন ঘিরে যত কথা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০১৯  

সারা বিশ্বে জনসংখ্যা এখন প্রায় ৭৫০ বিলিয়নের কাছাকাছি। এরমাঝে ৩৫০ বিলিয়ন মানুষ যা মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক আক্রান্ত “ডিপ্রেশন” নামের এক জটিল এবং ভয়াবহ মানসিক অবস্থায়। মানসিক রোগের চেয়ে একে মানসিক কন্ডিশন বা অবস্থা বলাই কিছুটা যুক্তিযুক্ত। ডিপ্রেশন এমনই এক জটিল অবস্থা সাধারণ নিয়মে চিকিৎসা করেও যার ফলাফল প্রায় অপরিবর্তিত থেকে যায়। কিছু এন্টি ডিপ্রেসিভ ওষুধে সাময়িক মুক্তি মিললেও ওষুধের প্রভাব শেষে রোগীর মাঝে আবারও ডিপ্রেশনের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 


ডিপ্রেশন কি?

আগেই বলা হয়েছে ডিপ্রেশন একটি মানসিক অবস্থা। অতিরিক্ত দুঃখবোধ, একাকীত্ব এসবের মাঝে ডিপ্রেশনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলেও এর সঠিক এবং নির্ধারিত সংজ্ঞা দেওয়া খানিক কষ্টসাধ্য। ডিপ্রেশন থাকা অবস্থায় একজন ব্যক্তির চিন্তা চেতনা, আচরণ এবং অনুভূতির সম্পূর্ণটাই থাকে ব্যক্তির নিজস্ব চাওয়া পাওয়া এবং প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে, আবেগের কাছে। 


একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, ডিপ্রেশন এবং বিষন্নতা কখনোই এক নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুতে কারও মাঝে বিষন্নতা, একাকীত্ব এবং অপরাধবোধ জাগ্রত হতে পারে। যা কোনোভাবেই ডিপ্রেশনের সংজ্ঞায় পরে না। 


২০১৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক এবং যুবকদের মাঝে প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ জীবনে অন্তত একবার ডিপ্রেশনের শিকার হয়েছেন। যা সে দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।   


সম্প্রতি সারা বিশ্বে পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা যায় যুবতি এবং বয়স্ক মহিলাদের (বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছর) মাঝে ডিপ্রেশনের হার সবচে বেশি। পৃথিবীর মোট ডিপ্রেশনের রোগীর প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এই দুই শ্রেণির। 

সুতরাং আপনি যদি ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন তবে প্রথমে আপনার উচিত পাশের আরেকজন ডিপ্রেশনে থাকা মানুষকে খুঁজে নেওয়া। এরপর বন্ধু হয়ে দুজনের মনের কথা ব্যক্ত করুন নিজেদের মতো করে। 


ডিপ্রেশনের লক্ষণ 

বিষন্নতা বা একাকীত্বই যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ তা নয়। ডিপ্রেশনের পরিধি অনেক বিস্তৃত। নিজেকে যাচাই করুন সবার আগে। যদি নিচের একাধিক লক্ষণ নিজের মাঝে খুঁজে না পান, তবে আপনি ডিপ্রেশনের রোগী নন। চেষ্টা করুন নিজেকে একবার ঝেড়ে ফেলে উঠে দাঁড়াতে। 

আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক সেন্টারের মতে, ডিপ্রেশনের কিছু লক্ষণ এমন-  

১। সবসময় বিরক্ত, অশান্তি বা অস্বস্তি কিংবা ক্লান্তিবোধ করা

২। চিন্তা চেন্তনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দূর্বল হয়ে পড়া

৩। ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা অথবা অতিরিক্ত ঘুম 

৪। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। খুব বেশি খাওয়া কিংবা খাওয়া একেবারে কমিয়ে দেওয়া

৫। নিজের ভেতর দূর্বলতা অনুভব করা

৬। কারণ ছাড়াই প্রচন্ড কান্না পাওয়া

৭। কারণ ছাড়াই প্রচন্ড মাথাব্যাথা বা শারীরিক অসুস্থতা

৮। প্রচন্ড নিরাশায় থাকা

৯। নিজেকে সামাজিক এবং নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবন থেকে গুটিয়ে নেওয়া

১০। সবশেষে মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যা নিয়ে চিন্তা শুরু করা
 


ডিপ্রেশনের কারণ 

ডিপ্রেশনের কারণ সম্পর্কে এখনও সঠিকভাবে কোনো কিছু জানা বিজ্ঞানীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বলা হয়ে থাকে, মস্তিষ্কে কেমিক্যাল সংক্রান্ত জটিলতা থেকে ডিপ্রেশনের সূচনা। যদিও তারচেয়ে বড় এবং প্রচলিত কারণ হিসেবে বলা যায়, 


ক্লান্তিকর এবং একঘেয়ে জীবন, প্রিয়জনের কাছে পাওয়া আঘাত কিংবা মৃত্যু, শৈশবের দুঃসহ স্মৃতি, বেকার জীবন কিংবা জীবনে প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু অর্জন করতে না পারার ব্যর্থতা। সবমিলিয়ে ডিপ্রেশনের কারণ একেবারেই চেনা। 


ডিপ্রেশনে করণীয়

প্রথমেই পদ্ধতিগত চিকিৎসার কথা বলতে হলে বলা যায়, বিভিন্ন এন্টি ডিপ্রেসিভ ওষুধ আপনি খেতে পারেন, যোগাযোগ করতে পারেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে। 


সেরাটোনিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্কে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আপনার ডিপ্রেশন কাটিয়ে তোলা সম্ভব। তবে তার আগে নিশ্চিত হতে হবে আপনি কি শুধু মস্তিষ্ক তাড়িত কারণে ডিপ্রেশনে ভুগছেন কি না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আগে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন। 


আমাদের মস্তিষ্কে সেরাটোনিনের পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া না গেলে যে ধরনের ডিপ্রেশনের উদ্ভব হয় সেসব ক্ষেত্রে এটি আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে ওষুধ গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়। 


তবে ওষুধের ক্ষেত্রেও আপনার অপেক্ষা করতে হবে খানিকটা সময়। এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধের কার্যকরীতা শুরু হতে প্রায় দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। 


এছাড়া আমেরিকার মায়ো ক্লিনিকের গবেষকদের মতে, ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন বা শরীরে কৃত্রিমভাবে চুম্বকীয় স্পন্দন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যদিও এসবের বাইরে ডিপ্রেশন নিয়ে সবচেয়ে বড় লড়াই করতে হয় নিজের সাথেই। 


নিজেকে সময় দিন। একা থাকা ডিপ্রেশন মুক্তির সমাধান না। আপনার কাছের অনেকেই আপনার মতোই ডিপ্রেশনে থাকেন। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী আপনার অন্য একজন ডিপ্রেশনের রোগী থেকে দূরে থাকতে ইচ্ছে হবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, এ সময় আপনার সবচেয়ে বড় সাহায্য করবে আরেকজন ডিপ্রেশনের রোগী। নিজেদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করুন। চেষ্টা করুন একে অন্যের পাশে থেকে নিজেদের জটিলতা দূর করার। 


সেই অনাদিকাল থেকে বায়ু পরিবর্তন খুবই কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। চেষ্টা করুন দূরে কোথাও ঘুরে আসতে। ছোট ছোট আনন্দদায়ক কাজের তালিকা করে সঙ্গীসহ সেসব পূরণের চেষ্টা করুন। এছাড়া মনোবিদদের আরেক পরামর্শ, কোনো চ্যারিটি কাজে যুক্ত হতে চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুই ঘন্টা নিজের চারপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন। 


সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে বোঝাবার চেষ্টা করুন বিশাল পৃথিবীটা আপনার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর অনেক কিছুই আপনার অজানা। অজানাকে জানার জন্য হলেও ডিপ্রেশন ছেড়ে মুক্ত বাতাসে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর