শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১২৪৩

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সিটি কলেজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছোট দু’চালা ঘরে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করা কক্সবাজার সিটি কলেজ আজকে ৫টি বিশাল ভবন ১৩ হাজার ২০৯  জন শিক্ষার্থী, ১৯১ জন শিক্ষক, নিয়মিত উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যক্রম বাদে ১৫টি বিষয়ে অনার্স, ৬ বিষয়ে মার্স্টাস নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়েছে। পর্যটন নগরী হলেও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা কক্সবাজার জেলাকে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত উচ্চ শিক্ষায় এগিয়ে নিচ্ছে জেলার এই্ আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কক্সবাজার শহরের আলীরজাহাল এলাকায় অবস্থিত কক্সবাজার সিটি কলেজের ভেতরে গেলেই মনে হবে যেন কোন পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসেছে। ৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ক্যাম্পাসের বিস্তৃতির পরতে পরতে রয়েছে নিখুত সুন্দরের হাতছানি। আর এই সফলতা এবং পূর্নতার বেশির ভাগই হয়েছে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে। সে জন্য বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জেলার সচেতন মহল। একই সাথে বর্তমান অধ্যক্ষ এবং কলেজ সভাপতির যোগ্য নেতৃত্ব এবং আন্তরিকতার ভূয়সী প্রসংশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের আলোকিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে কক্সবাজারকে উচ্চ শিক্ষার পাদপিট করার প্রত্যয় ব্যক্তি করে কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং জানান, ১৯৯৩ সালে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং ওই বছরের ২৯ জুলাই প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছিল। তখনকার সময় কক্সবাজারের বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী মানুষজনের আন্তরিক প্রচেস্টায় এই কলেজের যাত্রা শুরু। আমি উনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আজকের সিটি কলেজ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রির নিয়মিত বিষয় ছাড়াও ১৫ টি বিষয়ে অনার্স আছে সেগুলো হচ্ছে বি.এ (অনার্স) বাংলা, ইংরেজি, ইসলামের ইতিহাসও সংস্কৃতি এবং দর্শন।বি.এস.এস (অনার্স) অর্থনীতি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান,ও সমাজ বিজ্ঞান। বি.বি.এ (অর্নাস) হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং। বি.এস.সি (অর্নাস) পদার্থ বিজ্ঞান, ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিফিউলার এবং বায়োলজি। প্রফেসনাল কোর্সে অনার্স আছে বি.বি.এ ইন ট্যূরিজম এন্ড হসপিটালিটি এন্ড ম্যানেজমেন্ট বি.এস.সি অনার্স ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। এছাড়া থিয়েটার স্টাডিস এবং লাইব্রেরী সাইন্স বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মাস্টার্স (প্রিলিমিনারী) বিষয় হিসাবে হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান,র সমাজ বিজ্ঞান ও অর্থনীতি। একই সাথে এই ৬ টি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। অন্যদিকে ¯œাতক (পাস) বি.এ, বি.এস.এস এবং বি.বিএ বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। আর নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিভূক্ত ব্যবসায় ব্যবস্থপনা কোর্সে হিসাব রক্ষণ, ব্যাংকিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স এবং কম্পিউটার অপারেশন এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি (পাস) বিষয়ে লেখাপড়া চলছে। কলেজ অধ্যক্ষ ক্য থিং অং বলেন, মূলত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কলেজের সফলতা এবং উন্নয়ন এসেছে। সে জন্য বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার এবং শিক্ষা প্রশাসনকে ধন্যবাদ। একই সাথে সিটি কলেজ এই এলাকায় হাজারো উচ্চ শিক্ষিত মানুষ তৈরি করতে পারছে এটাই বড় পাওয়া। আমি বা আমরা চিরদিন থাকবো না। কিন্তু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাথা তুলে দাড়িয়ে থাকবে এটা আমার চাওয়া। এবং এই কলেজকে আরো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করার চেষ্ঠা আছে আমার।

আলাপকালে সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক এবং বর্তমান উপাধ্যক্ষ জাফর সাদেক বলেন, দু‘চালা টিনসেট ঘর, গুটি কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থী নিয়ে পথ চলা শুরু। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আজকে কলেজে ১৩ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী আছে এর মধ্যে ৭ হাজার ৪০৮ জন ছাত্র এবং ৫৮০১ জন ছাত্রী। এছাড়া কলেজের শিক্ষক সংখ্যা ১৯১ জন আর কর্মচারী সংখ্যা ৩১ জন। ৫ টি ভবন আছে এর মধ্যে ২ টি ভবন কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে করা। তিনি বলেন, কলেজের বেশির ভাগ উন্নয়ন হয়েছে গত ১০ বছরে। মূলত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় কলেজের সফলতাই সব চেয়ে বেশি।
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জেবুননেছা জানান, আমি ১৯৯৯ সালে এই কলেজে যোগদান করেছি সেই সময়ে সিটি কলেজ আর আজকের সিটি কলেজ আসমান জমিন পার্থক্য। মনে হচ্ছে, এটা স্বর্ণযুগ, শুরুর দিকে বিজ্ঞান শিক্ষার্থী ছিল খুবই কম, ২০/৩০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা বিজ্ঞান বিভাগ চালু রেখেছি। কিন্তু আজকে সব আসন পরিপূর্ণ। প্রথম বর্ষে এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২৭ আর দ্বিতীয় বর্ষে ২১২ জন। আমি মনে করি কক্সবাজার সহ আশপাশের জেলায় কক্সবাজার সিটি কলেজই বিজ্ঞান শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আমরা পাচ্ছি ডি,সি গ্রেডের শিক্ষার্থী তাদের আমরা উন্নত পরিবেশে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা দিয়ে এপ্লাস নিয়ে আসছি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামে এই কলেজের মত কোন উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এতে আমাদের কক্সবাজারের ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে থেকে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা পাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর কলেজের সামগ্রিক উন্নতির পেছনে কলেজের অধ্যক্ষ এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির যোগ্যতা এবং আন্তরিকতাই সব চেয়ে বেশি। তাদের প্রচেস্টার ফলে আজকে কক্সবাজারবাসী একটি বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে।
নবীন যোগদান করা শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ১৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রায় ২০০ শিক্ষক নিয়ে এতবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ চট্টগ্রামে আর আছে বলে আমার মনে হয় না। এই কলেজ না থাকলে কক্সবাজারের এত বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী কোথায় যেত ? নিশ্চয় তাদের বেশি টাকা খরচ করে ঢাকা চট্টগ্রাম যেতে হতো। তাই সিটি কলেজ কক্সবাজারবাসীর জন্য আর্শিবাদ। আর আমি এই কলেজের একজন হতে পেরে গর্বিত।

সম্প্রতি সরজমিনে গেলে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী নাসরিন, আইরিন, নাফিসা, আবছার কামাল ,মহিউদ্দিন সহ বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী বলেন, সিটি কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকলে যে কারো মন ভাল হয়ে যাবে। এখানে শহীদ মিনার সহ সুন্দর পরিপাটি ফুলের বাগান এবং আধুনীক ক্লাস রুম সব কিছুই বেশ গোছানো। এছাড়া অনেক কলেজে শুনি নিয়মিত ক্লাস হয় না। কিন্তু সিটি কলেজে নিয়মিত যেকোন ক্লাস হয়। এবং ক্লাসেই পাঠ আদায় করে থাকে। মোট কথা এই কলেজের গুনগত মান বেশ ভাল। সব চেয়ে বড় কথা বাড়ির কাছেই অনার্স মাস্টার্স শেষ করতে পারছেÑএটা ছোট ব্যাপার না। যেমন আমাদের নিজের ভাই বোনেরা চট্টগ্রামে গিয়ে মাস্টার্স শেষ করেছে আর এখন আমরা ঘরে বসে শেষ করতে পারবো।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী বলেন, আসলে অনেক ব্যাক্তির গুনাগুনের উপর প্রতিষ্ঠানের সফলতা এবং উন্নতি নির্ভর করে। আমার মতে সিটি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ক্য থিং অং একজন আদর্শ শিক্ষক এবং দক্ষ পরিচালক। তার চিন্তার বহিপ্রকাশ হিসাবেই সব কিছু খুবই সুন্দরভাবে গড়ে উঠছে। আমি অনেক অধ্যক্ষকে দেখেছি কলেজ ছাড়াই আরো অনেক কিছুর সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অংকে কলেজ ছাড়া আর কোন চিন্তা করতে দেখিনি।

এ ব্যপারে সিটি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে এমপি হওয়ার পরে সিটি কলেজের দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ছোট ভবন ছিল ২৫০ জন শিক্ষার্থী ২৩ জন শিক্ষক ছিল। এর পরে আমি উন্নয়নের হাল ধরেছি। পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সিটি কলেজ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল এবং কোথাও একটি ইটও বসাতে পারেনি। এর পরে আবারও এমপি হয়ে উন্নয়নের হাল ধরেছি। ফলে এখন কি অবস্থা সেটা সবাই জানে। আর সব কিছুর পেছনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন বলেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সিটি কলেজের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আমি সিটি কলেজ নিয়ে যেখানেই গেছি সেখান থেকেই সাড়া পেয়েছি তাই আজকের এই সফলতা। এছাড়া কলেজ পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য বর্তমান অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ সহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেস্টা আছে বলেই সিটি কলেজ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌছেছে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর