রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ৩ ১৪২৭   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৯১

দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগের নির্দেশ সেনা প্রধানের

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২০  

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে  বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এ দুটি একে অপরের সমর্থক। জাতির পিতার সোনার বাংলার' স্বপ্ন' আজ বাস্তবতা। আর এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। তারই বহিঃপ্রকাশ করোনা মোকাবিলা। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এ সফলতার কারণে সেনাাপ্রধান হিসেবে আমি গর্বিত।

নবগঠিত কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসে ৪টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।

কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্য নিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপপ্রাপ্ত জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং দেশমাতৃকার যেকোন প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে ইউনিটসমূহকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ পতাকা উত্তোলন প্যারেডে উপস্থিতির উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দূর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

সেনা প্রধান বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিন লাখ ২৪ হাজার ৭শ'পরিবারকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ২৯ হাজার ৬১জন কৃষককে মৌসুমী ফসল বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে। পরিচ্ছদ প্রদান করেছে ২৯ হাজার ২৮৯ টি দুস্ত পরিবারকে। এছাড়াি সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশে ৭৪ হাজার ২৩৫টি টহল পরিচালানা করেছে সেনা সদস্যরা। 

জেনারেল আজিজ আরও উল্লেখ করেন, করোনার কারণে যখন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছিল তখন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করে ৫০ হাজার ৮৩১জনকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি ১৪ হাজার ৬৪৭জন গর্ভবতী মায়েদের দেয়া হয়েছে বিশেষ চিকিৎসা সেবা। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনায় সেনাবাহিনীর নির্ভরতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

১০ পদাতিক ডিভিশন রামু সেনানিবাসে উপস্থিত সেনা সদস্যদের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পারিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুশৃংখল, দক্ষ ও যোগ্য সেনা সদস্য হিসেবে গড়ে উঠার নির্দেশ দেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সেই সাথে পেশাদারিত্বের ঈস্পিতমান অর্জনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোন হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।

সেনা প্রধান বলেন, করানকালে সেবার মানদণ্ডে সেনাবাহিনীর চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম  ত্যাগ ও সেবার  মানসিকতা এ অর্জনের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সঠিক পরিকল্পনা শৃংঙ্খলা ও  নিরলস পরিশ্রমের কারনে করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা আজ সর্বমহলে প্রশংসিত। সার্বিকভাবে করোনা মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য সেনা প্রধান হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত।  

সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ বলেছেন, জাতির পিতার সোনার বাংলার' স্বপ্ন' আজ বাস্তবতা। আর এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। এ ধারা অব্যহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। এটি নিশ্চিত করেণে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে আহবান জানান তিনি।

পরিশেষে সেনাবাহিনী প্রধান পতাকা উত্তোলন উপলক্ষ্যে একটি সুশৃংখল, মনোজ্ঞ ও বর্ণিল কুচকাওয়াজ প্রদর্শনীর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পদবীর সেনাসদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। 

১০পদাতিক ডিভিশন ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৪টি ইউনিট এর নবযাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উন্নয়ন রূপকল্প পোর্সেস গোল ২০৩০ এর বাস্তবায়নের পথে আরেকটি মাইলফলক সংযোজিত হলো। এই ডিভিশন সকল প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বে সফলভাবে নিয়োজিত রয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত হলে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, কক্সবাজার এরিয়া মেজর জেনারেল আহমদ তাবরেজ শামস চৌধুরী তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর প্যারেড কমান্ডার মেজর রিফাত উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি সম্মিলিত চৌকষ দল কুজকাওয়াজ প্রদর্শন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে জেনারেল সালাম প্রদান করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ষ্টেশন সদর দপ্তর রামু ষ্টাটিক সিগন্যাল কোম্পানী রামু, সিএমএইচ রামু এবং ১০ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করেন সেনাবাহিনী প্রধান ও উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ। 

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর