বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৩ ১৪২৭   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৭৯৬

নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০১৯  

কক্সবাজারের নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কক্সবাজারের পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠিকে শিক্ষায় এগিয়ে নিতে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন জেলার সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা। নিয়মিত ভাল ফলাফলের কারনে সবার চোখ সব সময় টিকে থাকে এই সৈকত বালিকা বিদ্যালয়ের দিকে।

কক্সবাজার সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর চন্দ্র দেব নাথ বলেন,আমি নিজেকে খুব গর্বিত মনে করি জেলার এই সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টানের একজন অংশিদার হতে পেরে। শহরতলী সহ আশপাশের বেশ কয়েক টি ইউনিয়নের অসংখ্য মধ্যবিত্ত এবং নিন্মমধ্য বিত্ত পরিবারের মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। 

১৯৮২ সালে প্রতিষ্টিত এই বিদ্যালয় ১৯৮৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার অনুমতি পায়। এমপিও প্রাপ্ত হয় ১৯৮৬ সালে। এর পর থেকে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। আমাদের বিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১০০ ভাগ সফলতা আছে। এঝাড়া ২০১৮ সালে ৯২.০৮% জেএসসিতে ২০১৭ সালে পাসের হার ৮৯.৮৪%,২০১৮ সালে জেএসসি পাসের হার ৯৬.০৪%,২০১৬ সালে পাসের হার ৯৮.২৬%। এর তুলানামূলক হিসাবে আমাদের ধারাবাহিক ফলাফল খুবই ভাল। ১ একর ৫০ শতক জমিতে বর্তমানে ৪ টি ভবন আছে এছাড়া ১ টি সেমিপাকা ভবন আছে। যদি সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা পায় সেমিপাকা ভবনটি যদি পাকা দ্বিতল ভবন করা যায় তাহলে আমাদের ছাত্রীদের জন্য লেখাপড়ায় আরো উন্নতি হবে। 

এছাড়া আমাদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং কম্পিউটার ল্যাব এবং ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রতি নিয়ত আমাদের শিক্ষার্থীরা আধুনীক প্রযুক্তিগত শিক্ষা পাচ্ছে। এতে ছাত্রীদের মাঝে লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালিন শিক্ষক  নূর আয়েশা বেগম বলেন,আমি যখন বিএ পাস করি তখন আমাদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে স্কুলে শিক্ষকতা করতে দিয়েছে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত স্কুলের সাথে আছি। আমি মনে করি শিক্ষকতা এখন রক্তের সাথে মিশে গেছে। তবেএকটা কথা নিশ্চিত বলতে পারি সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই অঞ্চলে নারী শিক্ষায় ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে এবং এখনো রাখছে।

আরেক শিক্ষক মৌলবী ফজলুল্লাহ শাহ বলেন,২৫০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করি। সেই থেকে এখনো সৈকত স্কুলের সাথে আছি। এই স্কুলের প্রতিটি কর্ণারে আমাদের হাতের ছোয়া আছে। সব থেকে বড় দিক এলাকার মানুষের ভালবাসা এবং শিক্ষার্থীদের সম্মানকে পূজি করে শিক্ষকতা করে যাচ্ছি এখানেই আমাদের সব কিছু পাওয়া।

এ সময় স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করাতে আসার শামসুন্নাহার বলেন,আমরা গরীব মানুষ সৈকত স্কুলের পাশে যে স্কুলটি আছে সেখানে ভর্তি ফি ৫ হাজার আর সৈকত স্কুলে ভর্তি ফি ১২০০ টাকা। তাই আমাদের মত গরীব মানুষ জনের মেয়েদের জন্য এই স্কুলই সেরা।

আরেক অভিবাবক নাজমা রহমান বলেন,আমার বড় মেয়ে সৈকত স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছে এখন ছোট মেয়েও ৭ম শ্রেনীতে পড়ে আমার স্বামী হোটেলে কাজ করে তাই সামান্য আয় দিয়ে তথাকথিত ভাল স্কুলে পড়নো সম্ভব না। এখানে খুব কম খরচে  আমার মেয়েরা এই স্কুল থেকে পড়ে ভাল ফলাফল করছে। এতেই আমি সন্তুষ্ট।

আলাপকালে স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বেগম বলেন,আমার হাত দিয়ে এই স্কুলের হাতে খড়ি।আমি প্রতিষ্টা কালিন শিক্ষক, আর  বিদ্যালয় প্রতিষ্টা কালিন সময়ে সাবেক অনারারি ম্যাজিষ্ট্রেট ফজলুল করিম, আনোয়ারুল ইসসাল চৌধুরী, পরবর্তিতে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রতিষ্টাতা অধ্যক্ষ শামসুল হুদা চৌধুরী সহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সহ অনেকে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখেছেন। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি এই স্কুল প্রতিষ্টার পর থেকে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য ভুমিকা রেখে আসছে।

আলাপকালে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল কাশেম বাবু ও ছৈয়দুল কাদের বলেন, সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী আছে অর্ধেক বেতনে বা বিনা বেতনে পড়ে। আমরা সব সময় চেস্টা করি কোন মেয়ে যাতে মৌলিক শিক্ষার বাইরে না থাকে।

আলাপ কালে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন,সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্টান যেখানে শিক্ষক,পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষার্থী সবার মাঝে সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে।এছাড়া আমাদের স্কুলের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে শুরু করে লেখাপড়ার  সার্বিক পরিবেশ বেশ ভাল। এছাড়া আমাদের স্কুলে সব শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং সবাই ডিডিটাল নিয়মে ক্লাব নিতে সক্ষম।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর