বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৩ ১৪২৭   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৬৪

নিরাপদ বসবাসে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০  

নিরাপদ বসবাসে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা নিরাপদে থাকতে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। কারণ প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটছে হত্যা, ডাকাতি, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ইয়াবা ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনাখুনির ঘটনা। পাশাপাশি বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতা।

বলতে গেলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প কোনটিই নিরাপদ নয়। এসব কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্পগুলো দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।

সূত্রমতে, গত ৩ বছরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও গ্রুপিংয়ের কারণে মারা গেছেন শতাধিক রোহিঙ্গা। গুম হয়েছেন অর্ধশত। এসব ঘটনা থেকে বাঁচতে অনেক সাধারণ রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে জেলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে দলে দলে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। মানবিক কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় দেন। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের নাগরিকত্ব আদায় করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতাসহ নানা কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাচ্ছে এ দেশ।

কিন্তু এসবে কোনো মাথা ব্যথা নেই তাদের। তারা আশ্রয় পেয়েই হরদম ঘটাচ্ছে খুনাখুনির ঘটনা। পাশাপাশি অপরাধীদের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা অনিরাপদভাবে দিনাতিপাত করছেন বলে জানালেন উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ মওলানা জালাল আহমদ।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগে আমার খুব ভালো অবস্থা ছিল। নতুন রোহিঙ্গারা আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেক খারাপ মানুষও এসেছে। তাদের কারণে আজ আমরা চরম অনিরাপদ হয়ে গেছি। গুম, খুন অপহরণ আর মাদক ব্যবসা বেড়ে গেছে। নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে খুন হয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা। পাশাপাশি হয়েছে অসংখ্য গুমও।

উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে বসবাসকারী কামাল হোসেন জানান, গত দুই সপ্তাহে শুধুমাত্র কিছু সন্ত্রাসী নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে ৮টি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আমরা এসব সন্ত্রাসীদের সমর্থন করি না। তাই আমরা নিরাপদ থাকার জন্য ভাসানচরে যেতে চাই।

একইভাবে জামতলি ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হোসন, জামাল হোসন, রোকিয়া আকতার, ফরিদুল আলম, কাশেম আলী জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঘুমাতে পারছেন না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। তাই নিরাপদ আশ্রয় চান তারা। আপাতত মিয়ানমার যেতে না পারলেও ভাসানচরে চলে যেতে চান তারা।

শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পে বসবাসকারী বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গা মুহাম্মদ আক্কাস আলী, ফোরকান আহমদ জানান, আমাদের কিছু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পথভ্রষ্ট হয়ে অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। খুন, ডাকাতি, অপহরণ, গুমসহ মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। এ অপকর্ম থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাই বলে জানান তারা।

টেকনাফের শামলাপুর ক্যাম্পের দায়িত্বরত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আবুল হোসন জানান, সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখতে এবং অপরাধ দমনে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস সূত্রে জানা যায়, ভাসানচরে বর্তমানে ৩০৬ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তারা কী অবস্থায় সেখানে বসবাস করছেন এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেগুলো দেখানোর জন্য ৫ সেপ্টেম্বর দুইজন সিআইসিসহ রোহিঙ্গাদের ৪০ জনের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়। প্রতিনিধি দলটি ভাসানচরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি খুবই বসবাসের উপযোগী স্থান।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সব পর্যবেক্ষণ করছি।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে সম্প্রতি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ আটজন নিহত হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে উল্লেখিত ঘটনায় ক্যাম্প এলাকা থেকে পুলিশ, র্যা ব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অভিযান চালিয়ে ২৫ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোশারফ হোসেন বলেন, ক্যাম্পগুলোতে কীভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় সেই দিকনির্দেশনা দায়িত্বরতদের দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৬টি, আসামি হয় ১৫৯ জন। ২০১৮ সালে ২৩৮ মামলায় আসামি হয়েছে ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৩টি। আর আসামি হয় ৬৪৯ জন। চলতি ২০২০ সালে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০৪টি মামলা হয়েছে। আসামির সংখ্যা ৭০৫ জন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক বিরোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতাসহ যে কোনো ধরনের অপরাধপ্রবণতা দমনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে অন্য স্থানে যেতে না পারে সেজন্য চেকপোস্টগুলোকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা যদি ভাসানচরে যেতে আগ্রহী হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই সে ব্যবস্থা করা হবে। কারণ বর্তমান সরকার হরেকরকম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে স্থাপনা করেছে। তাছাড়া বর্তমানে সেখানে অনেক রোহিঙ্গা ভালোভাবেই বসবাস করছেন।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর