রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ৩ ১৪২৭   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৪৭০

বাংলাদেশের টাইগার শোয়েব

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৯  

আধুনিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রভাব কারা ফেলে? এই প্রশ্নের উত্তরে যে কেউই বলবে দর্শকের কথা। বাস্তবিক পক্ষেই বর্তমান ক্রিকেটে দর্শকদের প্রভাব অনেক বেশি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতের দিকে তাকালে। দর্শক বেশি থাকায় ক্রিকেটের সাম্রাজ্যে ভারতের কর্তৃত্ব থেকেই বোঝা যায় এই খেলায় দর্শকদের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রতিটি দেশেরই রয়েছে কিছু বিশেষ সমর্থক বা সমর্থকগোষ্ঠী। সমর্থক হিসেবে তারা সেদেশের আইকনের মতো ভূমিকা পালন করেন। সম্মানও পান সব জায়গায়। তাদের নিয়েই আমাদের বিশেষ এ আয়োজন। আজ আমরা জানাব টাইগার শোয়েবের গল্প।

শোয়েব আলী 

 

 

নাম শোয়েব আলী হলেও ক্রিকেটভক্তদের কাছে তিনি টাইগার শোয়েব নামেই পরিচিত। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশই ঠিকমতো জীবিকা চালাতে হিমশিম খায়। ক্রিকেটের মতো ব্যয়বহুল খেলায় তাই সবকিছু ত্যাগ করে সমর্থন দেওয়া এখানে কঠিন ব্যাপার। কিছুটা অসাধ্যও বটে। তবে এ অসাধ্যই সাধন করেছেন টাইগার শোয়েব। 

শোয়েবের এই যাত্রা কি এতটাই সহজ? স্কুলে সর্বশেষ গিয়েছেন ১৩ বছর বয়সে। এরপর গাড়ীর মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত এই কাজে থাকলে মাঠে যেয়ে দলকে সমর্থন করবেন কিভাবে? তাই কাজ বাদ দিয়ে শুরু করেন মাঠে যেয়ে দলকে সমর্থন করা। ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দেওয়া শোয়েব আলী ঘরের মাঠে একটি মাত্র ম্যাচ মিস করেছেন।

 

 

 ২০১২ সালের এশিয়া কাপ বলা যায় তার জন্য টার্নিং পয়েন্ট। এর পূর্বেও তিনি স্টেডিয়ামে আসতেন, দেখতেন খেলা। তবে সেবার তিনি নিজের সারা শরীর বাঘের আদলে রঙ করে স্টেডিয়ামে আসেন। জাতীয় দলের প্রতীক বা উপাধির আদলে সেজে আসায় সহজেই সবার নজরে পড়েন তিনি। 

এরপর থেকেই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের খেলা মানেই জাতীয় পতাকা হাতে আর বাঘের সাজে গ্রান্ড স্ট্যান্ডে শোয়েবের উপস্থিতি। তবে শুধু শেরে বাংলা নয়, দেশ বিদেশের অন্যান্য স্টেডিয়ামেও তাকে অহরহই দেখা যায়। ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে পতাকা নেড়ে আর গলা ফাটিয়ে দলকে দিয়ে যান নিরঙ্কুশ সমর্থন। 

 

 

তবে চাইলেই তো আর ইচ্ছেমতো খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে যাওয়া যায় না। প্রয়োজন অর্থ। শুরুতে নিজের সব জমানো টাকা খরচ করলেও শেষ হতে বেশি সময় লাগেনি। এ অবস্থায় তার জন্য এগিয়ে আসেন তার ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের অর্থসাহায্যে বিভিন্ন সময় গ্যালারীতে বারবার গর্জে উঠেন শোয়েব আলী। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্রিকেট গ্রুপ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শোয়েবকে স্পন্সর করে সাহায্য করেন।

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। বিদেশে যাওয়ার জন্য কোনোভাবেই প্রয়োজনীয় অর্থের সঙ্কুলান হচ্ছিলো না। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শরণাপন্ন হন তিনি। মমতাময়ী নেত্রীও তাকে ফেরাননি। তার সহযোগিতায় সেবার অস্ট্রেলিয়ায় টাইগারদের সমর্থন করতে যান টাইগার শোয়েব। 

 

 

তবে এবারের বিশ্বকাপে এখনো ইংল্যান্ডে যেতে পারেননি তিনি। অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলেও ভিসা না পাওয়ায় ইংল্যান্ডে যেতে পারছন না এই আইকন সমর্থক। এখনো ভিসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় দেশে বসেই টাইগারদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

শোয়েবের প্রিয় খেলোয়াড় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তার প্রত্যাশা এবারের বিশ্বকাপে মাশরাফীর নেতৃত্বে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করবে বাংলাদেশ। 

শোয়েবের মতোই চাওয়া কোটি বাঙ্গালীর। আর প্রত্যাশা পূরণ হলে যারা সবচেয়ে বেশি খুশি হবে, শোয়েব তাদের ভেতর উপরেই থাকবেন। 

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর