মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১১১

বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২০  

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজারে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে পৌর শহরের ১২টি ওয়ার্ডে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবার অনেকে ভয়ে তথ্য দিচ্ছেন না। আর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবকদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

কোনভাবেই কক্সবাজারে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। রেডজোন, লকডাউন কিংবা সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরও সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। তাই এবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌর এলাকায় শুরু হয়েছে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ কার্যক্রম।

শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে একযোগে ১২টি ওয়ার্ডে এই কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রমে নামে স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে সংগ্রহ করছে তথ্য। তবে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে দাবি স্বেচ্ছাসেবকদের।

স্বেচ্ছাসেবক ওয়াহিদ মুরাদ সুমন বলেন, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে প্রথমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর শুক্রবার বিকেলে থেকে মাঠ পর্যায়ে কন্টাক্ট ট্রেসিং এর কাজ শুরু করি। তালিকাভুক্ত করোনা রোগীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি।

৬ নং ওয়ার্ড়ের সেচ্ছাসেবক নাজমুল হুদা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ঘরে রাখা গেলে করোনা কক্সবাজারকে করোনা মুক্ত করা সম্ভব।

আরেক স্বেচ্ছাসেবক মোচ্ছাদিক হোসেন আবু বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করে তা ডাটা এন্টি করছি। আক্রান্ত ব্যক্তির সংম্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য সংগ্রহ করে পুনরায় রাতে তা স্বাস্থ্য বিভাগের জমা দেওয়া হবে।

স্বেচ্ছাসেবক টিমের ইনচার্জ ফয়সাল হুদা বলেন, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যেমন তালিকা অনুযায়ী ফোন করলে অনেকে ফোন রিসিভ করে ভুল নাম্বারে কল করেছেন বলে কেটে দিচ্ছে। আবার অনেকে করোনা রোগী নয় বলে ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে। আবার তালিকায় দেওয়া ঠিকানায় গেলেও ঠিকানাটি সঠিক দেয়া হয়নি। এমন সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আবার সঠিক ঠিকানায় গেলেও অনেকে তথ্য দিতে চাচ্ছে না ভয়ে।

স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান সমন্বয়ক ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন, সংম্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবে এই স্বেচ্ছাসেবকরা। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা করা, বাজার, খাবার ও ওষুধসহ সব ধরণের সহযোগিতা করবে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম কক্সবাজার পৌরসভায় এই কন্টাক্ট ট্রেসিং হচ্ছে। এটা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, মেডিকেল কলেজ ও পৌর আওয়ামী লীগের সমন্বয়ে করা হয়েছে। তাই এখন জনগণের প্রতি অনুরোধ করব কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ে তথ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করার জন্য। কারণ এই কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে আক্রান্ত, সংম্পর্শে আসা ব্যক্তি সকলের চিকিৎসা, টেস্ট করানো, আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে আরও বেশি রোগী শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত করোনা সংক্রমণ শুণ্যের কোটায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তাই জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করার জন্য বার বার অনুরোধ করছি।

কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ করছে প্রশিক্ষিত ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছে ৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবক।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর