শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৮২৯

বিকিকিনিতে জমজমাট পাইকারি কাপড়ের বাজার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৯  

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। দোকানগুলোতে এখন বাহারি পণ্যের সমাহার। পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত দোকানিরা। এছাড়া হাকডাক দিয়ে চলছে খুচরা বিক্রিও। পুরান ঢাকার ইসলামপুরের কাপড়ের বড় পাইকারি বাজারগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ইসলামপুরের নবাববাড়ি এলাকায় যানজট ঠেলে ঢুকেই চোখে পড়ে সারি সারি কাপড়ের দোকান। ক্রেতাদের কাপড় দেখানো, দরদামে ব্যস্ত বিক্রেতারা। বোঝাই করা কাপড়ের থান মাথায় করে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এছাড়া বিক্রি করা মাল নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কাভার্ডভ্যান, রিকশা ও ভ্যান ভর্তিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা।

বেশির ভাগ কাপড়ের দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা বিক্রেতারাই মূলত এখানকার ক্রেতা। তবে অনেক দোকানে খুচরাও বিক্রি হচ্ছে হাকডাক দিয়ে।

দেশি-বিদেশি থান কাপড়, পাঞ্জাবির কাপড়, প্যান্ট, শার্টের পিস, থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজসহ পোশাক তৈরির বিভিন্ন অনুষঙ্গ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে। সুলভ মূল্যে কাপড় পাওয়া যায় বলে পাইকারি-খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ ক্রেতাও ভিড় করছেন পুরান ঢাকার এসব কাপড়ের দোকানে।

ইসলামপুরের ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের উৎসবগুলোর মধ্যে ঈদুল ফিতরে কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শবে বরাতের পর থেকে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সারাদেশ থেকে খুচরা বিক্রেতারা প্রয়োজনীয় কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে অর্ডার করছেন। এখন পাইকারি বাজারের ভরা মৌসুম। এ অবস্থা থাকবে রমজানের শুরু পর্যন্ত। তবে ১০ রোজা পর্যন্ত টুকিটাকি বেচা-কেনা চলবে বলে জানান তারা।

এম জে ট্রেডিংয়ের বিক্রয় কর্মী এ কে হোসেন বলেন, তাদের দোকানে প্যান্ট, শার্ট ও স্যুটের পিস বিক্রি হয়। পুরো বছর বেচা-কেনা হলেও শবে বরাতের পর থেকে মূল বিক্রি শুরু হয়।

বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে এ বিক্রেতা জানান, আগের মতো এখন তেমন ব্যবসা নেই। এখন বেশির ভাগ মানুষ রেডিমেড গার্মেন্টসের কাপড় পরে। থান কাপড়ের চাহিদা কম, তাই বিক্রিও কম।

কাপড়ের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসআই এন্টারপ্রাইজের তানভীর বলেন, ভারত, চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাপড় আমদানি করি। দাম কম ও মান ভালো হওযায় ভারত ও চায়না কাপড়ের চাহিদা বেশি। ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউজসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে স্যাম্পল দেখে কাপড়ের অর্ডার দিচ্ছেন। দুই সপ্তাহ ধরে প্রচুর অর্ডার আসছে। মাল ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। ঠিক মতো খাওয়ার সময়ও পাচ্ছি না।

দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বন্দরসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন আমদানি কাপড়ের দাম একটু বেশি। মান অনুযায়ী বিভিন্ন দামের কাপড় রয়েছে। ১০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত গজ কাপড় রয়েছে। তবে পুরো থান ছাড়া তারা বিক্রি করেন না। এক থানে ৩০ থেকে ১০০ গজ পর্যন্ত কাপড় থাকে।

বিভিন্ন দরের দেশি-বিদেশি পাইকারি থ্রি-পিস বিক্রি করে আল ফুজি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্বরত সাব্বির জানান, বিভিন্ন মান ও দামের থ্রি-পিস এখানে বিক্রি হয়। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাপড় আমদানি করা হয়। ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব কাপড়।

কোন ধরনের কাপড়ের চাহিদা বেশি- জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী বলেন, গরমের মৌসুমে সুতি কাপড়ের বেশি চাহিদা। এর মধ্যে ভারতীয় থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে কাপড় কিনতে আসা রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কাপড় ব্যবসায়ী জুয়েল জানান, আমরা খুচরা ব্যবসায়ী। পাইকারি মার্কেট থেকে কাপড় কিনে খুচরা বিক্রি করি। রমজান আসতে বেশিদিন বাকি নেই। তাই ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। কারণ রমজান আসলে পাইকারি বাজারে আর নতুন কোনো জিনিস পাব না। এছাড়া থান কাপড় এখনই কিনতে হবে। এটা দর্জির দোকানে বানাতে দিতে হবে। এক মাস বা ২০ দিন আগে সেলাই করতে দিতে হলে এখনই কাপড় কিনতে হবে। তাই ঈদের কেনাকাটা আগেই করে নিতে হচ্ছে।

পাইকারি বাজারের এক খুচরা ক্রেতা জানান, ইসলামপুরে কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তাই এখানে কাপড় কিনতে এসেছি। দুটি পাঞ্জাবির কাপড়সহ কয়েকটি থ্রি-পিস নিয়েছি। খুচরা বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে পেয়েছি এগুলো। এখানে যে কাপড় ২০০ টাকা গজে কিনেছি, বাইরে কিনতে গেলে তা ৩০০ টাকার নিচে পেতাম না।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর