রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ৪ ১৪২৭   ০২ সফর ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৮১

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে চকরিয়ার ‘শাপলা বিল’

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২০  

করোনা দুর্দিনে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকারি নির্দেশনার আলোকে সারাদেশের মতো কক্সবাজার জেলার সকল পর্যটন জোন বন্ধ রয়েছে গেল চারমাস ধরে। এতে সবধরণের চিত্র-বিনোদন থেকে যেমন পর্যটক-দর্শনার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি আর্থিকভাবে চরম দৈন্যদশা অতিক্রম করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে। তবে সর্বশেষ আশার কথা হচ্ছে, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে জেলার সবকটা পর্যটন জোন সচল করার ঘোষনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এবারের কোরবানি ঈদে চকরিয়া উপজেলার ভ্রমন পিপাসু মানুষকে ঘরে আবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। তার প্রমাণ ঘটেছে চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচরস্থ নববিলা শাপলা বিল ঘুরে। এখন প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জেলার নতুন পর্যটনস্পট চকরিয়ার ‘নলবিলা শাপলা বিল’।

বাস্তবতা হচ্ছে, পাহাড় ঘেঁষা বিশাল এ বিলে ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। হাজার হাজার শাপলার মাঝ দিয়ে নৌকা নিয়ে গেলে মনে হয় শাপলার দেশে যেন এক খন্ড নৌকা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগে দর্শনার্থীরা দলবেঁধে ছুটে যায় ‘নলবিলা’ শাপলা বিলে। এখানে সারা বছর শাপলা ফোটার কারণে এটির নামকরণ করা হয় ‘নলবিলা’ শাপলা বিল। শাপলা ছাড়াও এখানে প্রতি বছর শীত মৌসুমে হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটে।

সরেজমিনে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা সদরের পাশে লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন। ছোট্ট এই ইউনিয়নের অপরূপ সৌন্দর্য্য স্থান ঐতিহ্যবাহী ‘নলবিলা’ শাপলা বিল। উপজেলার লক্ষ্যারচর, কাকারা ও কৈয়ারবিল তিনটি ইউনিয়নের মাঝখানে বিশাল অংশজুড়ে এ বিলের বিস্তৃতি। বর্ষা মৌসুমে এই বিলে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বন্যার পানি প্রবেশ করে। বর্ষার পরপরই পানি একটু কমলে প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসুরা নৌকা নিয়ে ঘুরতে যায়। বর্ষার জলরাশির বুকে ঝাঁকে ঝাঁকে শাপলা ফুটে, তার সাথে নৌকার পাল তুলে ঘুরতে কার না মন চায়। বিশেষ করে ঈদ ও কোরবানির সময় ছাড়াও ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে শাপলা বিল।

কিছুদিন ধরে দুর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছে। কক্সবাজার, উখিয়া, পেকুয়া, লামা, আলীকদম, লোহাগাড়া থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছেন শাপলাবিলে। বিকেল বেলায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসে শাপলা বিলে হাজার হাজার শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় দর্শনার্থীরা। রাস্তার পাশ থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাপলা বিলের অপরূপ উপভোগ করা যায়। শাপলা বিলের পাশে চকরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে ঘুরতে যায়। আস্তে আস্তে শাপলা বিলে সৌন্দর্য্য উপভোগে মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ভ্রমন পিপাসুদের দাবি, যদি প্রশাসনের পক্ষে নানাবিধ সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে ‘নলবিলা’ শাপলা বিল পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

‘নলবিলা’ শাপলা বিল নৌকা নিয়ে বেড়াতে যাওয়া দর্শনার্থী চকরিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী ফারজানা প্রতিবেদককে জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে ৬-৮ মাস শাপলা বিলে প্রচুর পানি থাকে। এসময় শাপলার ফুলে ফুলে ভরে যায় বিলটি। এতে পর্যটকরা দলবেঁধে ঘুরতে যায়। বিকেল বেলায় শাপলা বিলে ঘুরতে খুব ভাল লাগে।’

তিনি বলেন, চকরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘নলবিলা’ শাপলা বিল পর্যটন শিল্প বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সৌন্দর্য উপভোগের উপযুক্ত স্থান হিসেবে দর্শনার্থীদের কাছে আগ্রহও বেড়েছে।

নববিলা শাপলা বিলে যাওয়ার মাধ্যম: চট্টগ্রাম থেকে যে কোনো বাসে ১৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে চকরিয়া সরকারি কলেজ গেট ও কক্সবাজার থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় চকরিয়া কলেজ গেইটে নেমে শাপলা বিলে যাওয়া যায়। এছাড়াও চকরিয়ার মূল ষ্টেশন চিরিংগা ষ্টেশন থেকে রিকশা, টমটম বা সিএনজি নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায় নলবিলার নৌকায় ঘাটে। ঐখান থেকে ১-২ ঘন্টার জন্য ২০০-২৫০ টাকার নৌকা ভাড়া নিয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে শাপলা বিলে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর