মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১১৯

যেখানে মাদক কারবারী, সেখানে হাজির হবে ওসি প্রদীপ !

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২০  

দেশবাসীকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার জন্য সরকার মাদক বিরোধী চলমান অভিযানকে আরো বেগবান করার জন্য বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত আইন-শৃংখলা বাহিনির সদস্যদেরকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

সেই ধারবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রধান মহাপরিদর্শক ডক্টর বেনজীর আহাম্মেদ দেশের বিভিন্ন থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন আপনার কর্মরত এলাকায় হয় মাদক থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে।

এই শ্লোগানকে বুকে নিয়ে স্ব-স্ব থানার অন্তর্গত এলাকা গুলোকে মাদক মুক্ত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য মাদক পাচার প্রতিরোধ ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে চলমান অভিযানকে আরো বেগবান করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মরন নেশা ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসাবে পরিচিত মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলাক মাদক মুক্ত করার জন্য দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে শুরু করে সাঁড়াশী অভিযান।

উক্ত অভিযানে লক্ষ লক্ষ ইয়াবাসহ আটক হয় অনেক অপরাধী। তবুও ইয়াবা পাচার অব্যাহত থেকে যায়। কারন মাদক ব্যবসায় জড়িত বড় মাফের ভদ্রবেশী অপরাধীরা আড়ালে থেকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উক্ত অভিযানকে আরো জোরদার করার জন্য বিগত ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে টেকনাফ মডেল থানায় যোগদান করে (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অত্র উপজেলা থেকে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মুল করার জন্য যুদ্ধ ঘোষনা করে কঠোর অভিযান পরিচালনা শুরু করে। উক্ত অভিযানে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বেশ কয়েকজন মাদক কারবারী।

এরপর নিজের জীবন বাঁচাতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে তালিকাভুক্ত প্রায় ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী।
থানা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান ২০২০ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মাদক পাচার প্রতিরোধ ও কারবারীদের নির্মুল করতে দিন রাত কঠোর ভুমিকা পালন করে মাত্র ২২ মাসের ব্যবধানে পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে প্রানে মারা যায় ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত। এর মধ্যে ৩৭জন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা।

মাদক বিরোধী এ সমস্ত অভিযানের ঘটনাস্থল থেকে ২৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৮০পিচ ইয়াবা,৪৩১টি দেশী-বিদেশী অস্ত্র,১৪০৩ রাউন্ড তাজা গুলি,৭টি ম্যাগজিন, ১৯টি ধারালো কিরিচ চোলাই ও বিদেশী মদ ৪০৩ লিটার, ৫৯লক্ষ,২৮হাজার,৪শত মাদক বিক্রির নগদ টাকা, ১৭ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করার
এবং ১৯৬৮জন অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িত আটক আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৯২৪টি মামলা দায়ের করা হয়। মাদক পাচারে ব্যবহার হওয়া মটর সাইকেল, সিএনজি,যাত্রীবাহি ১৮টি গাড়ী জব্দ করা হয়।

অপরদিকে এই ২২ মাসের ব্যবধানে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যদরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করার সময় মাদক কারবারে জড়িত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে গোলাগুলির ঘটনায় ৭৪জন অপরাধী নিহত হয়েছে।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কক্সবাজার জার্নালকে বলেন, একসময় টেকনাফের মানুষের ঘুম ভাঙ্গত মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা বস্তাভর্তি ইয়াবার গন্ধে। চলার পথে মানুষের শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়তো ইয়াবার গন্ধ! গত দেড় বছর ধরে আমাদের পুলিশ এবং অত্র উপজেলায় কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে টেকনাফ উপজেলা থেকে ইয়াবার আগ্রাসন প্রায় ৮০ভাগ কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন, অত্র উপজেলার মানুষকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার জন্য পুলিশের অভিযানকে আরো কঠোর ভাবে পরিচালনা করা হবে।

মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওয়তাই নিয়ে আসার জন্য আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। মাদক কারবারীদের জন্য ওসি প্রদীপের নতুন বার্তা মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীদের সন্ধান যেখানে পাবো সেখানে চলবে ওসি প্রদীপের অভিযান হয় আমি থাকবো না হয় মাদক কারবারী থাকবে।

পাশাপাশি পর্যটন নগরী টেকনাফকে মাদক মুক্ত করার জন্য স্থানীয় জনগনেের সহযোগীতা কামনা করেন।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর