শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৬ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৪৬

যেভাবে সিরিজ বোমা হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেন খালেদা-তারেক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২০  

১৭ আগস্ট ২০০৫। ভয়ঙ্কর কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায় বাংলাদেশ। সকাল ১১টায় জামাত-বিএনপি জোট সরকারের সময় দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির জঙ্গিরা। দেশের ৩০০টি স্থানে মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে ৫০০ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল জেএমবি। এতে দুজন নিহত ও দু-শতাধিক লোক আহত হয়।

সিরিজ বোমা হামলার স্থান হিসেবে জঙ্গিরা হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধাসরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে নেয়। হামলার স্থানসমূহে জেএমবির লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাসহ বিচারকদের প্রতি হুমকি বার্তা পাঠিয়েছিলো জেএমবি।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং চারদলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী কয়েক মন্ত্রী-এমপি-নেতার প্রত্যক্ষ মদদেই সে সময় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল কুখ্যাত জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই। স্বঘোষিত আঞ্চলিক শাসন জারি করে জেএমবি নেতারা রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর আত্রাই-রাণীনগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জিয়া পরিবারের সাথে বাংলা ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রকাশ্যেই তারেক রহমানকে মোবাইল ফোনে সম্বোধন করত ‘মামা’ বলে বাংলা ভাই। উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তায় দেখা যায়, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তখনকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ টমাসকে এ কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী।

২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট সারা বাংলাদেশে যে হামলা হয়, তাতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একাধিক তথ্য উপাত্ত যাচাই করে জানা যায়, ভিন্নমত দমন ও তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে নিজেদের সক্ষমতা বোঝানোর জন্য তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলা ভাই এমন হামলা চালায়। এছাড়া এই কর্মকাণ্ডে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ারও যোগসাজশেরও প্রমাণ মেলে।

আটক হবার পর বাংলাভাই নিজে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিয়ে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানান দিলেও তখন বিএনপি জঙ্গি তৎপরতার উপস্থিতি পুরোপুরি অস্বীকার করে। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন, ‘বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি। বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ জঙ্গিদের পেছনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতাদের সমর্থন থাকায় একপর্যায়ে বাংলা ভাইয়ের মিছিল করতে সরকারি ও বেসরকারি জিপ, কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল পাঠানোর জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। পুলিশকে দিতে হয়েছে বাংলা ভাইয়ের কর্মসূচিতে নিরাপত্তা। তবে বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে জঙ্গিদের আড়াল করার খালেদা জিয়ার চেষ্টার কিছুদিন পরই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে জেএমবি তাদের সরব উপস্থিতির জানান দেয়।

যারা সমগ্র বাংলাদেশে এক যোগে হামলা চালাতে মদদ দেয়।
তাদের কাছে এ দেশের মানুষ মোটেই নিরাপদ নয়।
দেশকে জঙ্গি মুক্ত রাখতে এগিয়ে আসুন।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর