বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭   ২০ রজব ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১২০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাতি রক্ষায় ‘বিশেষ’ প্রকল্প

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২১  

রোহিঙ্গা বসতির কারণে বিপন্ন হওয়া হাতির বাসস্থান, বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উখিয়া, টেকনাফ ও রামু আংশিক এলাকায় করিডোর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, রোহিঙ্গা বসতির কারণে উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর পাহাড়ি এলাকায় বিচরণরত হাতির আবাস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়েছে। এতে সেখানে অবস্থান করা হাতিগুলো বিপন্নতার মুখে পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে জরুরীভাবে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় নষ্ট হওয়া তিনটি করিডোর পুন:নির্মাণসহ প্রয়োজনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।  একই সাথে  হাতির বাসস্থান, বিচরণক্ষেত্র ও প্রজননক্ষেত্রের উন্নয়নেরও কাজ করা হচ্ছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ৬৩টি এশিয়ান হাতি বাস করে। উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর আংশিক এলাকায় হাতিগুলো রয়েছে। এসব এলাকায় তিনটি হাতি চলাচলের বৃহৎ করিডোর রয়েছে। এই করিডোরগুলো হলো, ২.৩৬ কি.মি. দৈর্ঘ্য ও ০.৬৭ কি.মি. প্রস্থ আয়তনের পানেরছড়া-তুলাবাগান করিডোর, ৪.৪২ কি.মি. দৈর্ঘ্য ও ১.০ কি.মি প্রস্থ আয়তনের রাজারকুল-নাইক্ষ্যংছড়ি করিডোর এবং ৪.৩৫ কি.মি. দৈর্ঘ্য এবং ১.১৩ কি.মি. উখিয়া-ঘুমধুম (কুতুপালং-নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম-তমব্রু-আজোয়া এলাকায় ব্যাপৃত) করিডোর। এই তিন করিডোর দিয়ে উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর আংশিক এলাকায় বাস করা ৬৩টি এশিয়ান হাতি বান্দরবান ও মায়ানমারে চলাচল করতো। কিন্তু রামু ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনের ফলে পানেরছড়া-তুলাবাগান করিডোর কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে ২০১৭ সালে অনুপ্রবেশ করা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বসতি স্থাপন করায় উখিয়া-ধুমধুম করিডোরটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে এসব এলাকায় বাস করা এশিয়ান হাতিগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাতিগুলো সংকুচিত স্থানে আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় চরম খাদ্য সংকট এবং প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে বিপন্ন জীবন যাপন করছে হাতিগুলো। যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ হাতি ও মানুষের সাংঘর্ষিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই কারণে ইতোমধ্যে হাতির আক্রমণে ১২জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত বছরের ১২ জুলাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মানুষ ও হাতির নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে হাতির করিডোর পুন:নির্মাণসহ আবাস্থল রক্ষায় বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর পরপরই কাজ শুরু করা হয়। জরুরী ভিত্তিতে বনবিভাগ নিজস্ব অর্থ থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে শিগগিরই তা শেষ হবে।

কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল’র প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতি নির্মাণ করতে গিয়ে বিলুপ্ত প্রায় এশিয়ান হাতির আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে পরিবেশের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মানুষ এবং হাতির মধ্যে প্রতিনিয়ত সাংঘর্ষিক ঘটনা ঘটছে। করিডোর নির্মাণসহ হাতির চলাচলের প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করা হলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা বলেন, ‘হাতির পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার কারণে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি। এতে মানুষের আক্রমণে কয়েকটি হাতি মারা পড়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে হাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এই পরিস্থিতি আরো প্রকট হবে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘হাতি রক্ষায় কোনো ধরণের অবহেলা করা যাবে না। কারণ হাতি পরিবেশের একটি বিরাট অংশ। হাতি রক্ষায় জেলা প্রশাসন সব ধরণের সহযোগিতা করে যাবে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর