শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১১১

লক্ষাধিক মানুষের তিন মাসের খাবার মজুতের ব্যবস্থা ভাসানচরে

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২০  

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য উপযোগী করে তোলা ভাসানচরে একসঙ্গে তিন মাসের বিভিন্ন খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক লাখের বেশি লোকের খাদ্য সংরক্ষণে ২০৫ ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি সুবিশাল ওয়্যারহাউস (গুদামঘর) বানানো হয়েছে সেখানে। রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর এসব ওয়্যারহাউস বাংলাদেশের ভূমিহীনদের জন্য ব্যবহার করা হবে।

রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য এখানে যে আবাসিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তার আওতায় প্রতিটি ব্যারাকে পৃথক সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকছে। প্রতিটি শেল্টারে ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক সোলার সেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি শেল্টার স্টেশন আলোকিত রাখার পাশাপাশি সৌর পাম্প ব্যবহার করে পানি তোলা সম্ভব। এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল জেনারেটর এবং দুটি ৫০০ কিলোওয়াট ডিজেল জেনারেটর বসানো হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ফুয়েল ট্যাংকও।

মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা নোয়াখালীর ভাসানচর ঘুরে সম্প্রতি এসব চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি মূলত ক্লাস্টার হাউজ, শেল্টার স্টেশন বা গুচ্ছগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ক্লাস্টার হাউজ ও শেল্টার স্টেশন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত ভবনসমূহ ভূমি থেকে ৪ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টার হাউজে ১২টি ঘর, প্রতিটি ঘরে ১৬টি করে রুম রয়েছে এবং একটি চারতলা বিশিষ্ট কম্পোজিট স্ট্রাকচারের (স্টিল) শেল্টার স্টেশন রয়েছে। মোট ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ঘরের সংখ্যা এক হাজার ৪৪০টি এবং ১২০টি শেল্টার স্টেশন নিয়ে গুচ্ছগ্রামটি গঠিত। প্রকল্পটিতে যাতে এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন শরণার্থী বসবাস করতে পারে সেই ব্যবস্থার আলোকে গুচ্ছগ্রামসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক নৌবাহিনীর কমোডর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ভাসানচরের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের জন্য ৩২টি ফুয়েল ট্যাংক (২,২৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন) নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য দুটি শেল্টার আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেখানে প্রশাসনিক কাজের প্রতিনিধিদের জন্য একটি, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য একটি, রেডক্রস ও আন্তর্জাতিক এনজিওর জন্য একটি, এতিমখানার ব্যবহারের জন্য একটি, ডে কেয়ার সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য একটি শেল্টার রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নোয়াখালী, তালপুর, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ছোট জাহাজ/কার্গো ভেসেলসমূহ নিরাপদে যাতায়াতের জন্য কিছুসংখ্যক নেভিগেশনাল বয়া স্থাপিত রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ভাসানচর সংলগ্ন অত্যন্তরীণ নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ছোট জাহাজ/কার্গোর সঠিক নেভিগেশনের জন্য ৯১ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতা এবং ১৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নেভিগেশন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি লাইটহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের ক্লাস্টারে নির্মিত পুকুরের পানি অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া স্থায়ী ফায়ার স্টেশনের জন্য প্রকল্প এলাকায় ৩১ একর জমি রাখা হয়েছে।

ক্লাস্টার ঘুরে দেখা যায়, ভাসানচরে আশ্রিতদের রান্নাবান্নার জন্য প্রায় তিন হাজার চুলা বসানো হয়েছে ঘরগুলোতে। এক লাখ লোকের জন্য প্রতি মাসে এক হাজার ১২৫ টন জ্বালানির প্রয়োজন হবে। এই জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার হলে আশপাশে বনভূমি উজাড় হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে, যেজন্য জ্বালানি হিসেবে চারকোল বা কাঠকয়লা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বসানো হয়েছে আড়াইশ বায়োগ্যাস প্লান্ট।

প্রথমে সেখানে ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে। এরা প্রত্যেকে অবৈধপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলেন। সাগরে ভাসতে ভাসতে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিল। কিন্তু কোথাও ভিড়তে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ, ১৭৬ জন নারী এবং ৩৩ জন শিশু। তাদের অনেক নারী ইতোমধ্যে সেলাই কাজে অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে, সেখানে প্রশস্ত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলও তৈরি করা হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড়কালীন সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রকোপ থেকে দ্বীপের ভূমি রক্ষা করবে। এ প্রকল্পটি সরকার প্রণীত ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে প্রয়োজন ছাড়া কোনো গাছ কাটা হয়নি। ফলে এখনো বিস্তৃত বনাঞ্চল রয়েছে।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর