শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৪ ১৪২৭   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১৯৩

লম্পটের পক্ষ নিয়ে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওসি মর্জিনার !

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

একজন নারী হয়ে অন্য এক নারীকে সাহায্য না করে উল্টো লম্পটের পক্ষ নিয়ে নির্যাতন করেছে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মর্জিনা। এমন জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে নারীবাদি কোন সংগঠনের বিবৃতি চোখে পড়লো না এ পর্যন্ত !

বিয়ের নাম করে উখিয়ার মরিচ্যা চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল মো. সুমন কর্তৃক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ধর্ষিত হয় কলেজ ছাত্রী। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ৭ জুলাই রাতে বিয়ের প্রস্তাব তোলায় উখিয়া থানায় নির্যাতনের শিকার হন ওই ছাত্রী। তাকে প্রতারণার ফাঁদে পেলে ৩ লাখ টাকার দাবিতে থানায় সারারাত টর্চার করা হয়। এ ঘটনায় উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তার, কনস্টেবল মো. সুমন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম ও এএসআই মো. শামীমকে আসামি করে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ২৫ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়। ভিকটিম নারী কক্সবাজারের একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। তার বাড়ি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ায়।

অভিযুক্ত ওসি মর্জিনার বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারি হিসেবে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কুতুপালংয়ের বখতিয়ার মেম্বারের কাছ থেকে ‘ভাংতি’ টাকাসহ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নোট: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্র ধরে পুলিশ কনস্টেবল সুমনের সঙ্গে তার সর্ম্পক হয় প্রায় এক বছর আগে। এরইমধ্যে তাদের বেশ কয়েকবার সরাসরি দেখা হয়। শারীরিক সম্পর্কও হয়ে যায়। উখিয়া মরিচ্যা চেকপোস্টে দায়িত্বের সুবাদে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সুমনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকেন। সর্বশেষ ওই কক্ষে সুমনের সঙ্গে দেখা করতে যান ওই ছাত্রী। সেখানেও তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ রাখেন সুমন। এক পর্যায়ে ৭ জুলাই সকালে কথা হয় সুমনের সাথে। সুমনের কথা মতো উখিয়ার মরিচ্যায় যান তার প্রেমিকা। সেখানে তাদের বিয়ের ব্যাপারে অনেক কথা হয়। এরপর ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিকালের দিকে উখিয়ার ইনানী নিয়ে যান সুমন। সেখানে তারা উঠেন সুমনের কয়েকজন বন্ধুর কক্ষে। বন্ধুদের সামনেও তাদের বিয়ের বিষয়ে কথা ওঠে। কথার এক পর্যায়ে সুমন ও তার প্রেমিকার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নেন মরিচ্যা গিয়ে কাজী ডেকে বিয়ে করবেন। মরিচ্যায় গিয়ে বিয়ের নামে নানা তালবাহানা শুরু করেন সুমন। ৭ জুলাই রাত ১০ টার দিকে প্রেমিকাকে রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। যখন সুমন রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে উধাও হয়ে যায়; তখন রাত ১১টার দিকে আমি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন স্যারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করি। স্যার উখিয়া থানায় যোগাযোগ করে সেখানে যেতে বলেন। স্যারের কথায় আমি রাত সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া থানায় হাজির হয়ে ওসি মর্জিনা আক্তারকে সব বিষয় খুলে বলি। বলার পর থেকে আমার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। প্রথম দফায় আমাকে ব্যাপক মারধর করেন ওসি নিজেই। এরপর দ্বিতীয় দফায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য (পুরুষ) আমাকে মারধর করেন। পুলিশের ব্যাপক মারধরে আমার সারা শরীরে আঘাত হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণও হয়। পুরো শরীরজুড়ে পুলিশি নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। হিজাব দিয়ে চোখ বেঁধে এবং হাতকড়া পরিয়ে মারধর করা হয়। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা তলপেটে লাথি মেরেছে বেশি। যার কারণে পরনের জামাও রক্তাক্ত হয়ে যায়। শারীরিক নির্যাতনের সময় অনেক মন্দ গালিগালাজও করা হয়। কনস্টেবল সুমনের সাথে যোগাযোগ না রাখার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় মারধর করা হয়। এমনকি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে চালান করে দেয়ার হুমকিও দেন ওসি। ইয়াবার কথা শুনে তাদের সব কথায় রাজি হই। এর পরদিন ৮ জুলাই (বুধবার) আমার বাবার সাথে যোগাযোগ করেন ওসি। বাবা উখিয়া থানায় এসে আমাকে নিয়ে যান। কিন্তু আমার মোবাইল ফোনটি রেখে দেন ওসি। বাসায় এসে চকরিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। ৯ জুলাই ডাক্তার দেখাই চকরিয়ার একটি হাসপাতালে। আঘাতের চিহ্ন দেখে ডাক্তারও রীতিমত অবাক হন। এরপর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিই। সুমন দেখে শুনে আমার সাথে সম্পর্ক করেছে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কও করেছে। তাই বলে আমাকে এমন নির্যাতন করবে মেনে নিতে পারছি না। নারী ওসি নিজে মেরেছেন ঠিক আছে; কিন্তু পুরুষ পুলিশের দ্বারা নির্মম মারধর করা হয়েছে। আমার শরীর দেখলে বোঝা যায় কেমন নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ। আমি এর বিচার চাই। বিচারের জন্য আমি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর