বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭   ২০ রজব ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১৭৩

শেখ হাসিনা : আশ্রয়হীনের আকাশে এক সাহস সূর্য

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

যার আশ্রয় নেই সেই জানে আশ্রয়ের মানে। আমাদের নেত্রীকেও তো একদিন তার বাপ দাদার ভিটেয় থাকতে দেয়া হয়নি। জাতির পিতাকে হত্যার পর পালিয়ে দিননিপাত করেছেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হয়তো পলাতক জীবনে তিনি ভুগতেন নিজের ভিটের জন্যে। আর তাই তিনি দেখিয়ে দিলেন পৃথিবীর সবচে বড় চমকটা। একদিনে ৭০ হাজার গৃহহীন মানুষকে ঘর উপহার দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি শুধু নয় বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা । দুদিন আগেও যারা ছিলেন সম্বলহীন তারা আজ নিজ বাড়ির মালিক। মুজিববর্ষে এর চেয়ে বড় ইভেন্ট আর কিইবা হতে পারে!

রাজনৈতিক কারণে শেখ হাসিনার সমালোচনা করা মানুষটাও হয়ত নিজের অজান্তে বলে ফেলেছেন ‘সাবাশ শেখের বেটি সাবাশ’। হ্যাঁ বলবে নাই বা কেন??  দলমত নির্বিশেষে তারাও তো এই দেশের বাসিন্দা। দেশের অর্জন তো  তাদেরও অর্জন। ক্ষমতার লোভে হয়তো প্রকাশ্যে এই অর্জনকে বরণ করে নেয়ার সৎ সাহস তাদের নেই। তবে হ্যাঁ, মানুষ কেঁদেছে। অঝরে কেঁদেছে।
বাগেরহাটের তরিকুল ইসলাম, যশোরের শাহিনুর বেগমসহ বাংলাদেশের ৪৯২ টি উপজেলার গৃহহীন মানুষ হাসিনার উপহারে আনন্দের অশ্রæ ঝরিয়েছেন। হাসিনা জানেন বাংলাদেশ মানে এক সাগর আত্মত্যাগ। বাংলাদেশ মানে সাহস বাজি রেখে মৃত্যু মেনে নেয়া। বাংলাদেশ মানে একাত্তরের সন্তান।

যে রকমটা জানতেন পিতা মুজিব..
তর্জনীর ঔদ্ধত্যে বিশুদ্ধ আবেগে কাপন তুলেছিলেন স্বাধীনতাকামি নাগরিকের বুকে। এরপরের ইতিহাস তো আমরা জানিই। বাংলাদেশে স্বাধীনতার টকটকে এক লাল সূর্য উঠলো ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পিতা মুজিব ভাবতেন ভালোবাসাই রাজনীতির শেষ কথা। কারণ তিনি তো কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের চোখে বাংলাদেশকে দেখেছিলেন। তিনি ভাবতেন বাংলায় কথা বলতে পারা প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখবে লাল সবুজের পতাকা ঘিরে। কিন্তু তার সৎ ও সরল সেই চাওয়ার বিপরীত দিকটাও তার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছিল। তবে এটাও সত্যি যার বুক ভরা ভালোবাসা থাকে সে বিশ্বাস করতে পারে না পৃথিবীতে ঘৃণা বলে কোন শব্দ আছে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পিতা মুজিবের স্বপ্ন ছিল দেশ ভরা হাসি। সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন মেহনতকে সম্মান দেয়ার কথা। তিনি বলেছিলেন শ্রেনী বৈষম্য ভেঙে দেশটাকে বানাতে হবে হাসির ফোয়ারা। একজন মন্ত্রী যেভাবে হাসবেন, একজন আমলা যেভাবে হাসবেন সেভাবেই হাসবেন একজন কৃষক, একজন শিক্ষক একজন সম্পাদক।

তৃতীয় বিশ্বের একজন নেতার এমন মাথা তুলে দাঁড়াবার দুঃসাহস যে সুনজরে দেখবে না মোড়লরা এটাই তো স্বাভাবিক। সেটা জানতেন পিতা মুজিবও। কিন্তু ঐ যে দেশের প্রতিটি রক্তবিন্দু আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে অগাধ বিশ্বাস ছিল তার। তিনি জানতেন বাংলাদেশ তাকে বুক দিয়ে আগলে রাখবে।

একদিন  হঠাৎ বাংলাদেশের বুকের ভেতর দিয়ে বের হয়ে এলো এক কুচক্রী পাকিস্তান। বাংলাদেশের কাঁধে ভর দিয়েই বুলেট বিদ্ধ করা হল পিতাকে। বাদ যায়নি পরিবারের কনিষ্ঠতম  সদস্য শেখ রাসেলও। কারণ খুনিরা জানতেন বঙ্গবন্ধুর রক্তের কত তেজ। খুনীরা জানতেন বঙ্গবন্ধুর এক ফোটা রক্ত পেলেই পুনরায় জীবন ফিরে পাবে বাংলাদেশ। তাই তারা সেদিন কোন ঝুঁকি নিতে চায় নি। কিন্তু যে দেশ বিনির্মাণে এত রক্ত ঝরেছে সেই দেশের মৃত্যু পরম করুনাময় আল্লাহই বা কীভাবে মেনে নেন। তাইতো প্রাণে বাঁচলেন পিতার দুই কন্যা। খুনীরা হয়তো তখন ততটা পাত্তা তাদের দেয়নি। হয়তো নারী বলে অবহেলাও করেছে। কিন্তু যার শরীরে শেখ মুজিবের রক্ত সে তো আগুন হয়ে জলবেই একদিন। হলোও তাই।

২১ অগাস্ট আরেকবার চেষ্টা চালালো পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর, রাজাকারদের পুনর্বাসন করা মেজর জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। শোনা যায় জিগাতলায় বসে সজীব ওয়াজেদ জয় তার মা শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন ‘মা তারেক আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে না’। উত্তরে মমতাময়ী মা, অগ্নিকন্যা শেখ হাসিনা তার ভীত সন্ত্রস্ত পুত্রকে বলেছিলেন --“আমাদের ইতিহাসই তো রক্তে দিয়ে নির্মিত, মৃত্যু ভয় পাওয়া কি  আমাদের মানায়’’। হ্যাঁ এটাই তো শেখের বেটি, এটাই তো বাংলাদেশ।

একটা দেশের রাজনৈতিক চরিত্র একদিনে বদলে দেয়া সম্ভব না। অনেক জং ধরেছিল তো। কয়েক যুগের দুর্নীতিপরায়নতা তো একদিনে মুছে দেয়া সম্ভব না। কারণ দিনশেষে অর্থই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। যে অর্থকাতরতা, দুর্নীতিপরায়নতা দূর করতে গেলে জাগ্রত করতে হবে দেশপ্রেম। শেখ হাসিনা এগিয়েছেন সেই লক্ষ্যেই।

তাইতো দিকে দিকে দুর্নীতি, অনিয়মের সংবাদ এখনও আসে। তবে তুলনায় গেলে স্পস্ট প্রমাণ মিলবে শেখের বেটি সে পথেই এগোচ্ছেন যে পথের সে খিলখিল করে হাসছে বাংলাদেশ। সমালোচকেরাও এটা টের পান। কিন্তু কোন অদৃশ্য স্বার্থে তারা সত্যি বলেন না। তাতে কি? শেখের বেটি কারও ধার ধারে না। তাইতো বিদেশি ষড়যন্ত্রে বন্ধ হওয়া পদ্মা সেতুর কাজ তিনি নিজস্ব অর্থায়নে করেছেন।

 এখানে সবচে ম্যাজিক্যাল যে জায়গাটা সেটা হচ্ছে ইনভল্বমেন্ট। দক্ষিণ বঙ্গের পদ্মা সেতু বিনির্মাণে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বাংলাদেশের সমস্ত জেলার লোক। অর্থাৎ? রংপুর, কুড়িগ্রাম বা চট্টগ্রামের মানুষটাও ভাবছে পদ্মা সেতু তার, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের। এই ভাবনার চর্চাটাও ভীষণ দরকার, দেশ বিনির্মাণে আঞ্চলিক রেসিজম যে একটা বাঁধা এটা শেখের বেটি জানেন। হয়তো ভবিশ্যতে এ নিয়েও থাকবে তার মহাপরিকল্পনা।

এবার আমরা ফিরে আসি মুজিব বর্ষের সেরা উপহার প্রসঙ্গে। মুজিববর্ষ নিয়ে বিরোধি শক্তি কম অপপ্রচার চালায় নি। অর্থ ব্যয় নিয়েও স্বভাবসুলভ বালখিল্যতা দেখিয়েছেন। তারা এও বলেছে যে টাকা ব্যায়ে পিতার জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে সেই টাকা দরিদ্রদের উপকারে ব্যয় হতে পারতো। এটা মূলত পুরনো রোগ। মুজিব বা জয়বাংলায় তারা এভাবেই দিনের পর দিন রোগাক্রান্ত হয়েছেন। যার সাহসী আত্মত্যাগে একটি জাতি স্বাধীনতার সূর্য স্পর্শ করলো তার জন্মশতবর্ষ পালনে বাংলাদেশে হাসির ফোয়ারা বইবে না এটা তো ভুখন্ডের জন্যই লজ্জার।

যাই হোক এবার আসি দরিদ্রদের জমির মালিক বানানোর গল্পে।

নিজের একখানা বাসস্থানের কথা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি তারা। বছরের পর বছর ফুটপাতে আর অন্যের জমিতে থাকতে থাকতে এমন স্বপ্ন দেখাও হয়তো ভুলে গিয়েছিলো দেশের ভূমিহীন গৃহহীন মানুষরা।
ফুটপাত থেকে বস্তি আর বস্তি থেকে ফুটপাত, এভাবেই উদ্বাস্তুর মতো সারাটা জীবন কেটেছে যাদের। সেই ভূমিহীন ও গৃহহীনপরিবার  উপহার পেলেন  পাকা ঘর । এটিই বিশ্বে গৃহহীন মানুষ কে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে  বাংলাদেশ। গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর করে দেওয়ার এত বড় কর্মসূচি পৃথিবীতে আর একটিও নেই।

 সারা পৃথিবীর ইতিহাসে মুজিব কন্যা একটি মাত্র নাম যে কিনা একসাথে লক্ষাধিক গৃহহীণ মানুষকে মাথা গুজার ঠাঁই করে দিলেন।
বিশ্বাস করেন মুজিব কন্যার এই প্রচেষ্টার পক্ষে আপনাদের প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয়া উচিত ছিল। উচিত ছিল মানুষটার এই অসাধ্য সাধনের কৃতিত্বকে সম্মান জানানোর। কারণ এই দেশের নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস তো আপনিও নিচ্ছেন। বিরোধিদল আর দেশ বিরোধিতার পারথ্যক্য এখন অন্তত আপনাদের বোঝা উচিত। রাজনীতি করা উচিত শুধু বাংলাদেশের জন্যই। কারণ শেখ হাসিনার ক্ষমতার লোভ নেই। তা থাকলে উনি ক্ষমতা আকড়ে থাকতেন।

মহাখালি ফ্লাইওভারের মত একগাদি অকার্যকর ফ্লাইওভার বানিয়ে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়নের লিফলেট বিতরণ করলেই পারতেন। উনি তা করেন নি। মেয়র হানিফ সেতু করেছেন, কুড়িল ফ্লাইওভার করেছেন, বাড্ডা ইউলুপ করেছেন । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরিকল্পিত অর্থ বিনিয়োগ নয়, জনগনের সুবিধা নিশ্চিতে বিনিয়োগ করেছেন। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা শেখের বেটির ব্যাপারে একটু বেশিই কৃপণ। কারণ বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে তুলনা করে ব্যাখা করতে কাউকে দেখি নি কখনও। এটা দরকার ছিল। কারণ তাদের মূল্যায়ন পড়েই তো সাধারণ মানুষ মেলাবে জটিল অংক।

যাই হোক তাদের দৈন্যতায় অভিমান করার কন্যা আমাদের হাসিনা নয়। তাইতো প্রশংসাহীন জনপদে  তিনি উপহার দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক প্রশংসা প্রকল্প। মেট্রোরেইল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতুসহ নানারকম প্রকল্পে দেশে অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এবারে তিনি নেমছেন অনাহারি মানুষের অন্ন বস্ত্র নিশ্চিতের  যুদ্ধে। আমি নিশ্চিত শেখের বেটি এই যুদ্ধেও জিতবে। কারণ তার একমাত্র এজন্ডা পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন। পিতার স্বপ্ন কি ছিল এটা যদি কেউ বুঝতে চান তাহলে তার লেখা তিনটে বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়া চীন পড়ার অনুরোধ রইলো। বই তিনটে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন যদি ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ এ তাকে হত্যা করা না হত তাহলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বনেতৃত্বে প্রথম সাড়িতে থাকতো, বাংলাদেশ হত দাতা দেশ।

আমি বিশ্বাস করি আমাদের সাহসিকা দেশকে নিয়ে যাবেন সেই চুড়ায় যেখানে দাঁড়িয়ে পৃথিবীটা খুব কাছের মনে হবে। আর ক্ষমতা ক্ষমতা করে গলায় ফেনা তোলা নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শেখের বেটি ক্ষমতার পাগল না। শেখের বেটি চায় দেশে বিরোধি রাজনীতি চলুক।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা হোক। কিন্তু এই দেশে বিরোধি বলতে আওয়ামীলিগের মুখোমুখি দেশ বিরোধিরাই দাঁড়িয়েছে বরাবর। ৭৫ এর ভয়াবহ ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে ভালবাসতে শেখা আজকের তরুণটি আর কক্ষনো বাংলাদেশের বুকের উপরে একখণ্ড পাকিস্তান মেনে নেবে না।

তাই আসুন না দেশকে ভালোবাসি, অসত্যের সমালোচনা করি, সত্যের সাথে হাটি। আর বিনির্মাণের প্রধান সেনাপতি শেখ হাসিনাকে দাঁড়িয়ে একটা স্যালুট ঠুকি।
মা তোমায় স্যালুট। কন্যা তোমায় স্যালুট। পিতা মুজিবের মত দেখতে হোক বাংলাদেশের প্রতিটি অলিগলি, প্রতিটি নিঃশ্বাস।  

লেখক : ইসতিয়াক আহমেদ জয়, কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। সাবেক সভাপতি, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর