রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৯ ১৪২৭   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৪০৭

সমকামী জিনের ধারণা উড়িয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সমকামী জিন বা ‘গে জিন’ এর কোনও অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রায় ৫০ লাখ নারী ও পুরুষের ওপর এক গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞানের বিখ্যাত সাময়িকী ‘নেচার’ জানিয়েছে। জিনতত্ত্বের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় গবেষণা।

গবেষকদের মতে, জিনের কারণে নয়, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সমকামিতার জন্য দায়ী। এতে আরও বলা হয়, জিন সরাসরি সমকামিতার ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা পালন করে না। বরং সামাজিক অথবা পরিবেশ-পরিস্থিতিই এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। জিনের মধ্যেমে কোনও মানুষের এ ধরনের যৌন আচরণ বুঝতে পারা প্রায় অসম্ভব বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জিন গবেষক বেনজামিন নেইল বলেন, ‘আমি আশা করি, বিজ্ঞান মানুষকে সাধারণ ও প্রাকৃতিক যৌন আচরণ বিষয়ে শিক্ষিত করে তোলার কাজে ব্যবহৃত হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং আরও কিছু সংস্থার অর্থায়নে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষকরা সমকামী নারী ও পুরুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যে অনেক পার্থক্য খুঁজে পান বলেও জানান।

তারা জানিয়েছেন, সমকামিতায় অভ্যস্তদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও মানসিক কিছু সংকট দেখা গেছে। অবসাদ, সামাজিক চাপ এসবও কাজ করে থাকে অনেক ক্ষেত্রে।

এ গবেষণায় সমকামীদের সংস্থা এলজিবিটির অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা এ গবেষণা ফলাফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর অনেকে বলবে বিজ্ঞানকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিকভাবে সমকামীরা আরও নাজুক অবস্থায় পড়তে পারেন বলেও তাদের ধারণা।

ফিনল্যান্ডের মলিকিউলার মেডিসিন, ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের জিনতত্ত্ববিদরা বলেছেন, ‘সমকামিতা এবং জিনের মধ্যে সম্পর্ক নেই। ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষার ফলাফলে তেমন চাঞ্চল্যকর কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ তাদের স্বভাবজাত কারণে সমকামী হয়ে থাকে।

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অ্যানালিটিক্যাল ও ট্রান্সলেশনাল জেনেটিক ইউনিটের গবেষক আন্দ্রে গান্না জানিয়েছেন, যে জিনকে সমকামী বলে হইচই হয়েছে, সেটি তার নির্ধারিত মাপের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি বড় এবং ছোট ছোট নানা জিনের সমষ্টি।

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটির জিনতত্ত্ববিদ ব্র্যান্ডেন জিৎস বলেছেন, একক সমকামী জিনের অস্তিত্ব নেই। পাঁচ রকম জেনেটিক ভ্যারিয়েশন দেখা গেছে, যেখানে সমলিঙ্গে যৌন আকর্ষণের সম্পর্ক রয়েছে।

সমকামিতা এবং জিনের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩ সালে আমেরিকার জিনতাত্ত্বিক ডিন হ্যামার কয়েকটি পরিবারের সমকামী পুরুষদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দাবি করেন, সমকামিতা ‘এক্স ক্রোমোজোমের’ তারতম্যের কারণে হয়। আমাদের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার অধিকাংশই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

এর মধ্যে কিছু জিনের মুখ্য ভূমিকা থাকে যাদের বলে মার্কার (নির্দেশক)। গবেষকরা দাবি করেন, সমকামী পুরুষদের ১৩ এবং ১৪ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে ওই মার্কার জিনের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ওই জিনই সমকামিতার জন্য দায়ী। ওই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বিজ্ঞানীমহলে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিস্টিকাল জেনেটিক্সের অধ্যাপক গিল ম্যাকভানের কথায়, যৌনতা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। পরিবেশ, অভিজ্ঞতা, সহজাত প্রবৃত্তি এবং কোনও ক্ষেত্রে শারীরিক গঠনের তারতম্যের কারণেও এর পরিবর্তন হওয়া সম্ভব।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর