শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৬ ১৪২৭   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৮৭

সমুদ্র সৈকতে কোন স্থাপনা করা যাবেনা -জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২০  

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অবস্থিত। এখানে কোন স্থাপনা করা আইনগত ভাবে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এমন কিছু করে তাদের বিরোদ্ধে কঠোরভা্েব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুরে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ইনানীর রয়েল টিউলিপ এর সামনে সমুদ্র সৈকত দ্বি-খন্ডিত করে বাঁধ নির্মাণ করার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কালে কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলন( বাপা) নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য প্রদান করেন ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে কক্সবাজারের ইনানী রয়েল টিউলিপ এর পশ্চিম পাশে জিও ব্যাগ দিয়ে কে বা কারা বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের১৯ এপ্রিল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ( ইসিএ) ঘোষনা করা হয়েছে। ইসিএ এলাকায় কোন ধরনের স্থাপনা না করার সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার পরেও সরকারি আইন অমান্য করে বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করতে কে বা কারা বতৃমানে বাঁধ নির্মানে করেছে ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, ইনানীর রয়েল টিউলিপ বিপরিত পাশে জি ব্যাগ দিয়ে একটি বিশাল বাধ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সে বাধ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিড় করা হয়েছে।আমরা কক্সবাজারের নাগরিক হিসাবে ও পরিবেশ কর্মী হিসাবে এই বাঁধের অপসারণ দাবি করছি। এবং এই ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এদিকে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকত বাঁধাহীনভাবে ১২০ কিলোমিটার রয়েছে। কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আকাশ থেকে দেখলেই মনে হবে দাগহীন সাদা চাদর। কোথাও কোন দাগ নেই ,ছেঁড়া নেই। এখন এই বিশাল সৈকতের মাঝখানে বাঁধা দিয়ে দ্বি-খন্ডিত করেছে কে বা কারা।
বাপা নেতৃবৃন্দরা মনে করছে, যদি এই বাধ দেওয়া হয় তবে ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত তখন দ্বি-খন্ডিত হয়ে যাবে। মাঝখানে বাঁধের কারনে পর্যটকরা সৈকতে অবাধে চলাচল করতে পারবেনা। বাঁধের কারনে তখন একটি উত্তর সৈকত ও আরেকটি দক্ষিণ সৈকত নামে পরিণত হতে পারে যা পৃথিবীর বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত নামটি মুছে যাবে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে প্রতিবছর ভাঙ্গছে উপকুলীয় সৈকত। বাঁধ হলে সমুদ্রের ঢেউ বাঁধাগ্রস্থ হবে। আর বাঁধাগ্রস্থ হলেই আশেপাশের এলাকা ভেঙ্গে পড়বে।

দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, প্রকৃতি পরিবেশ, জীববৈচিত্র, ইকোটুরিজ্যম সুরক্ষায় কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতে বাঁধের নির্মান অপসারণের প্রত্যাশা করছে বাপা নেতৃবৃন্দ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন এর কাছে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, দৈনিক কক্সবাজার ৭১ এর সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার , বাংলাভিশন এর ষ্টাপ রিপোটার মোর্শেদুর রহমান খোকন,
দৈনিক কক্সবাজার বার্তা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পরিবেশ কর্মী এইচএম নজরুল ইসলাম, দৈনিক খোলা কাগজ এর জেলা প্রতিনিধি ও পরিবেশ কর্মী মোঃ নেজাম উদ্দিন, প্রমুখ।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর