মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১২০

সৈকতে প্রবেশে ভিড়, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২০  

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রবেশের জন্য প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত দর্শনার্থী। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাউকে সৈকতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ট‌্যুরিস্ট পুলিশ। এজন‌্য সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সরজমিনে দেখা যায়, সৈকতের লাবণী, শৈবাল, মাদ্রাসা, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে কয়েকশ’ দর্শনার্থী ভিড় করছে। কিন্তু তাদেরকে সৈকতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত ট‌্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। দর্শনার্থীদের বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়ছে।

করোনা পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য গত ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এরপর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় লকডাউন। তারপর রেডজোন জারি করে দুই দফা লকডাউন করা হয়। গত ১১ জুলাই শেষ হয় সাধারণ ছুটি। এরপর কক্সবাজারের সব কিছু সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু সৈকতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থেকে যায়। অথচ খুলে দেওয়া হয় কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও কটেজ, পাঁচ শতাধিক রেস্তোরাঁ ও সহস্রাধিক বার্মিজ দোকান।

এদিকে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই সৈকতে ছুটছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শুক্রবার দর্শনার্থীদের সংখ‌্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সৈকতে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে চলে যান তারা।

৮ বছরের ছেলে ওয়াহিদুল আলমকে নিয়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বেড়াতে এসেছেন শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল আলম। কিন্তু সৈকতে প্রবেশ করতে দেয়নি ট‌্যুরিস্ট পুলিশ।

সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বাচ্চারা। তাই সৈকত দেখাতে নিয়ে এসেছিলাম ছেলেকে। কিন্তু সৈকত দেখতে দিল না পুলিশ। এখন দূর থেকে সৈকতে দেখে বাসায় চলে যাচ্ছি।’

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বেড়াতে আসা সিয়াম ও রেহানা দম্পত্তি বলেন, দীর্ঘ সময় ঘরে বন্দি থেকে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সৈকতে বেড়াতে আসা। কিন্তু করোনার কারণে সৈকতেও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ট‌্যুরিস্ট পুলিশ।’

ট‌্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রিপন বড়ুয়া বলেন, ‘‘কোনভাবে সৈকতে আসা দর্শনার্থীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। পয়েন্টগুলো দিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে ঝাউবাগান দিয়ে নানাভাবে সৈকতে ঢুকে পড়ছেন তারা। পরবর্তীতে টহল গাড়ি নিয়ে কিংবা মাইকিং করে এসব মানুষকে তুলে দিতে হচ্ছে।

‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা সংক্রমণ ঠেকানো জন্য এখনও পর্যন্ত সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই প্রতিটি পয়েন্টে পাঁচ জন করে ট‌্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

‘আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। এরপরও যদি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা না ওঠা পর্যন্ত কাউকেও সৈকতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য আগামী ঈদুল আযহা পর্যন্ত কক্সবাজারের সকল পর্যটন স্পট বন্ধ থাকবে। এরপর কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খুলে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর