শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৯১

হেফাজতের কমিটিতে জামায়াতের ছায়া

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২০  

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা ঠাঁই পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ১৫১ সদস্যের এ কমিটির অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতা। এ ছাড়া কমিটিতে ঢুকে গেছেন কয়েকজন জামায়াত নেতাও।

জামায়াতের চট্টগ্রাম নগরের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন পেয়েছেন হেফাজতের কমিটির সহকারী আইন বিষয়ক সম্পাদক পদ। এ ছাড়া হাবিবুল্লাহ আজাদীসহ আরো ছয় থেকে আটজন জামায়াত নেতাও কমিটিতে রয়েছেন।

সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অরাজনৈতিক এ সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসায় এ কমিটি নিয়ে খোদ হেফাজতের নেতারাই ক্ষুব্ধ। হেফাজতের একাংশের নেতাদের মতে, নতুন কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আধিক্য রয়েছে। তাঁরা হেফাজতকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। অরাজনৈতিক এ সংগঠনে রাজনৈতিক নেতারা ঢুকে যাওয়ায় হেফাজতের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত সাবেক নেতারা। প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অনুসারীদের বাদ দেওয়ায় শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে নতুন কমিটি।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের গত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, ‘একটি বিতর্কিত (জামায়াতে ইসলামী) রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের ইন্ধনে এ কমিটি হয়েছে। আল্লামা শফীর নীতি-আদর্শের অনুসারীদের বাদ দিয়ে ঘোষিত নতুন কমিটির কোনো সম্পর্ক মূল হেফাজতে নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা রুহী বলেন, হেফাজতের নতুন কমিটি ২০ দলীয় জোটের একটি অংশবিশেষ। গত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা (সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মুনির হোসেন, ওবায়দুল্লাহ ফারুক) কয়েকজন নেতাও হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। আমাদের হিসাবে জমিয়তে উলায়ামে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ জন নেতা এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আমরা চাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সংগঠন। রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে নিয়ে  শক্তিশালী একটি কমিটি হোক।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শুরা কমিটির সাবেক সদস্য আ. ন. ম আহমুদুল্লাহ বলেন, ‘যাঁরা সাত-আট বছর ধরে বহু চেষ্টা করেও হেফাজতের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন, ওই সিন্ডিকেটটি কমিটিতে ঢুকে পড়েছে।’

অরাজনৈতিক এ ধর্মীয় সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই উল্লেখ আছে, শীর্ষ পদসহ কমিটিতে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা পদে থাকতে পারবেন না। শীর্ষ পদে থাকার তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তা না মেনেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটিতে মহাসচিবের পদ পান। তিনি গত কমিটিতে নায়েবে আমির ছিলেন।

শুধু তিনি নন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদে থাকা মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, জুনাইদ আল হাবিবসহ তিনজন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন। নায়েবে আমির পদে ওবাইদুল্লাহ ফারুক, মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী পান অর্থ সম্পাদক পদ। এ ছাড়া আব্দুর রউফ ইউসুফ, বাহাউদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম, ফয়সল, হাবিবুল্লাহসহ আরো কয়েকজন পদ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া জমিয়তের নেতার সংখ্যা প্রায় ৩৫।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক যুগ্ম মহাসচিব, তাঁর বড় ভাই খেলাফতে মজলিসের সাবেক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক পেয়েছেন নায়েবে আমিরের পদ। এ ছাড়া নির্বাচনের নিবন্ধিত এ রাজনৈতিক দল থেকে আরো প্রায় ২০ জন পদ পান।

আরেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এ দলের আমির মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজী নায়েবি আমির ও মহাসচিব মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী সহকারী মহাসচিব হন। এ দল থেকে আরো কয়েকজন পদ পান।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের হেফাজতের নায়েবে  আমির হন। তিনি ছাড়া আরো কয়েকজনও পদ পেয়েছেন।

এদিকে হাটহাজারী বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী হেফাজতের প্রচার সম্পাদক হয়েছেন। 

নানুপুর মাদরাসা থেকে আপন তিন ভাই সালাউদ্দিন নানুপুরী নায়েবে আমির, মাওলানা কুতুবউদ্দিন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং মাওলানা হেলালউদ্দিন নানুপুরী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ পান। অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নেজামে ইসলাম পার্টির মুসা বিন ইজাহার পেয়েছেন সহকারী মহাসচিবের পদ। এ ছাড়া এ দল থেকে আরো ১০ জন পদ পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী নতুন আমির নির্বাচিত হন। সম্মেলনে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন গত কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর