বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৩ ১৪২৭   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৩৬৭

১২শ’কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে বিমানবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০১৮  

অপরূপ সৌন্দের্যের এক লীলাভূমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এ সমুদ্রের উপকূল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দৃষ্টি নন্দন এ বিমানবন্দটির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে সমুদ্র সৈকত ও সমুদ্রের কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠার কারণে। এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর। 

ইতিমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) কাজ ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ণ হতে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সম্প্রতি সুপরিসর বোয়িং বিমান চলাচল উদ্বোধনের পর পর্যটন খাতে নতুন দিগন্তের সুচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

তাঁরা বলছেন, অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের এ বিমানবন্দরটি চালু হলে প্রতিদিন হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক সরাসরি বিমান যোগে কক্সবাজার আসা যাওয়া করতে পারবে। এছাড়া বিমানবন্দরটি যে ধরনের মডেলে স্থাপন নির্মাণ করা হচ্ছে তা হবে একটি আকর্ষণী ও দর্শনীয় গুরুত্বপুর্ণ বিমানবন্দর। বিশ্বের উন্নত মডেলের বিমানবন্দরগুলোর একটি অন্যতম সৌন্দর্য বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার বিমানবন্দর। 

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ইতিপূর্বে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে উন্মুক্ত হয়েছে। রানওয়ে চওড়া করা হয়েছে দেড়শ থেকে ২০০ ফুট। বিমানবন্দরের এই রানওয়ে দিয়েই বোয়িং ৭৩৭ এর মতো সুপরিসর বিমানসহ দৈনিক ৯-১০টি বিমান ওঠানামা করছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর কক্সবাজার বিমানবন্দরটি হলো দ্বিতীয় এয়ার ফিল্ড, যাতে এয়ারলাইনস বেজ স্টেশন রয়েছে। লাইটিংসহ রানওয়ে সম্প্রসারণের বাকি কিছু কাজ সম্পন্ন হলেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোয়িং ৭৭৭ এর মতো সুপরিসর বিমান ওঠানামা করবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) তথ্যমতে, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)-এর প্রাক্কলিত ব্যয় ১১৯৩.৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৮০২.৬৬ কোটি টাকা এবং সিএএবির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩৯১.৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুরু হয়ে গত জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলো— হাল্লা করপোরেশন (কোরিয়া), মীর আকতার হোসেন লি. (বাংলাদেশ) এবং সিয়োকওয়াং লি. (কোরিয়া)। 

বিমানবন্দরের রানওয়ে দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিকরণ, রানওয়ে প্রশস্তকরণ, রানওয়ে শোল্ডার নির্মাণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। টেক্সিওয়ে, ওভার রান নির্মাণ চলছে। গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট ও বাঁধ রক্ষার কাজ শেষ হয়ে গেছে। ভবন নির্মাণ কাজের মধ্যে পাওয়ার হাউস ও সিসিআর রুমের কাজ সম্পন্নের পথে। এজিএল সিস্টেম স্থাপনের মধ্যে ইউরোপিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে ও মালামাল নিয়ে এসেছে। মোট ৩২১.৩৪ হেক্টর জমির মধ্যে ২৭৬ হেক্টর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়নের মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজার ঘনমিটারের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। 

এলজিইডি কর্তৃক ৫৯৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ও বিডব্লিউডিবি কর্তৃক স্লোপ প্রোটেকশন বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের পথে।

সিভিল এভিয়েশন সুত্র জানায়, ২০০৯ সালে ও ২০১২ সালে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা করলেও বিভিন্ন সমস্যায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৫ সালের ২ জুলাই ১১শ’ ৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
প্রকল্প অনুযায়ী বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ, এবং ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট চওড়া করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বিমান রানওয়ে থেকে টার্মিনালে আসার ১ লাখ ৯৭ হাজার টেক্সিওয়ে এবং রানওয়ের পিসিএন (পেভমেন্ট শক্তি বৃদ্ধিকরণ) বর্তমান ১৯ একক থেকে ৯০ তে উন্নীতকরণের কাজ করছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর