সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
৬৬

২০ কেজি করে চাল পাচ্ছে কক্সবাজার জেলার অর্ধলক্ষ জেলে

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ইলিশের প্রজনন মওসুম চলছে। সরকার ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে। এটি কার্যকরে মাঠে রয়েছে কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী। নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের পাশে দাড়িয়েছে সরকার। প্রতি জেলে পরিবার পাচ্ছে ২০ কেজি করে চাল। জেলেদের জন্য প্রণোদনা হিসাবে সরকার এ কর্মসূচি চালু করেছে। আগেও মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জেলায় নিবন্ধিত এবং শুধুমাত্র ইলিশ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহকারি ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন জেলের জন্য প্রতিজন ২০ কেজি করে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সরকার ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত চাল বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব হোসেন। ইতোমধ্যে চাল বিতরণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় চাল বরাদ্দ প্রেরণ করা হয়েছে। ৪ নভেম্বরের আগে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা যাবে বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা।

জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের আর্থিক সমস্যা বিবেচনা করে সরকার প্রতিজন জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ প্রদান করেছে। গত ১০ অক্টোবর বরাদ্দকৃত চাল ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ তালিকা প্রস্তুত করে স্ব স্ব ইউনিয়নে এ চাল বিতরণ করা হবে।

জেলার ৮ উপজেলার ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন জেলের জন্য ৪০০ মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত জেলের সংখ্যা রয়েছে ২০ হাজার জন। উপজেলা ভিত্তিক নিবন্ধিত জেলে ও বরাদ্ধের পরিমাণ হলো কক্সবাজার সদরে ৭১২০ জন জেলের জন্য ৫৮ টন, চকরিয়ার ৩৮৫৭ জন জেলের জন্য ৩১ টন, পেকুয়ার ৩৯৬৭ জন জেলের জন্য ৩৩ টন, মহেশখালীর ১১,৪৪২ জন জেলের জন্য ৯৭ টন, টেকনাফের ৭৮৮৩ জন জেলের জন্য ৬৮ টন, উখিয়ার ৩৩৯২ জন জেলের জন্য ২৩ টন, রামুর ২২৭৩ জন জেলের জন্য ১৮ টন, এবং কুতুবদিয়ার ৮৪৫৯ জন জেলের জন্য ৭২ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু উক্ত চাল ভিজিএফ এর চাল সেহেতু চাল বিতরণে যেন কোন অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের র্নিদেশিকায়।

৮ উপজেলার জন্য পরিবহন ব্যয় বাবৎ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ ও দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, আমরা বরাদ্দ অনুযায়ি চাল স্ব স্ব উপজেলায় পাঠিয়ে দিয়েছি, সেখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জেলেদের চাল বিতরণের প্রস্তুতি বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উপজেলায় পৌছেছে । যথাযথ নিয়ম মেনে চাল বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিতরণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি আগামি সপ্তাহের মধ্যে জেলেদের বরাদ্দের এ চাল আমরা বিতরণ শুরু করতে পারবো। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই শতভাগ সচ্ছতার সাথে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান নবাগত এ কর্মকর্তা।

এদিকে ইলিশ ধরা মওসুমে চাল বরাদ্দের বিষয়ে জেলা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির সভাপতি পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, আমরা আমাদের পরিষদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পরিষদে এনেছি। আগামি বুধবার বিতরণ করার চেষ্টা করব। এবার চাল বরাদ্দ কম পেয়েছি ।

গতবার ৩০ কেজি করে জনপ্রতি বরাদ্দ ছিল কিন্তু এবার ২০ কেজি করে দেয়া হয়েছে। আমাদের পরিষদে ৬শ জন জেলে থাকলেও এবার চাল পাবে ২৬৮ জন। যেহেতু নিষিদ্ধ সময় কম সেহেতু চাল বরাদ্দও কম হয়েছে। ট্যাগ অফিসারের শিডিউল পেলে আগামি বুধবারের মধ্যে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান এ পরিষদ সচিব।

উল্লেখ্য জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে আগে ৩০ কেজির স্থলে ২৬ কেজি এবং কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে আরো কম বিতরণ করার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এবার সে চাল বিতরণে যেন স্বচ্ছ ও যথাযথ হয় সে ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপের উপর গুরুত্বারোপ করছেন সুফলভোগি জেলেরা।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর