শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

কক্সবাজার বার্তা
সর্বশেষ:
৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ‘২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনার চিঠি ডিসেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রুট গোলদিঘির পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিকমানের মারকাজ মসজিদ ২০২২ সালের মধ্যে ট্রেন চলবে কক্সবাজারে কক্সবাজারের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলো জাতিসংঘ দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মহেশখালী-কুতুবদিয়ায়! এগিয়ে চলছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ ১০০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে কক্সবাজারে ২৫ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়নে শীর্ষে কক্সবাজার
১৬২

২৮ অক্টোবর: বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যাচারের জবাব

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

২৮ অক্টোবর, ২০০৬। বিএনপি-জামাত জোট দেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় যে মিথ্যা আর ষড়যন্ত্রের মঞ্চায়ন করেছিল ২৮ অক্টোবর তেমনই একটি দিন। এই দিনে রাজধানীর পল্টনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও তৎকালীন সদ্য ক্ষমতাত্যাগী চারদলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। যুদ্ধাপরাধীদের জোট জামাত-বিএনপি ৫ বছরের অপশাসনের পর ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আগে জনআক্রোশ থেকে বাঁচতে চড়াও হয় সাধারণ মানুষের ওপর। সন্ত্রাসী আক্রমন চালায়। কিন্তু জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে সেদিন বাঙালি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৫ বছরে জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা অপশাসনের জবাব দেয়। ষড়যন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোট জনগণের এই বিক্ষোভ নিয়েই মিথ্যার জাল বোনে। তারা দাবি করে, ১৪ দলের লোকজন তাদের ওপর লাগি-বৈঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে নেতা-কর্মীদের। অথচ ওইদিন বিএনপি-জামাত এবং সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশের আগ্রাসনে নিহত হয়েছিল যুবলীগ নেতা জিনারুল ইসলাম ও মনির হোসেন, যুবমৈত্রী নেতা রাসেল আহমদ খানসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

কী ঘটেছিল সেই দিন?

জাতীয় নির্বাচনের আগে, বিএনপি-জামাত জোট সরকার সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা এমনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল, যাতে বিএনপির এক সময়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগসহ তখনকার প্রায় সবগুলো বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি। তখনকার প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল বিচারপতি কে এম হাসানকে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা চলবে না। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা এই দাবি আদায়ের জন্য রাজপথের আন্দোলন ক্রমে জোরদার করতে থাকে। কিন্তু বিএনপি অনড় থাকে। জামাত দ্বিতীয়বার বিএনপির সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাতে থাকে। এ অবস্থাতেই আসে খালেদা জিয়ার ক্ষমতার শেষ সময়। আওয়ামী লীগ ও মিত্ররা ২৮ অক্টোবর পল্টন এলাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশ ডাকে। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে পাল্টা সমাবেশ ডাকে বিএনপি ও জামাত। ২৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়লেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্টভাবেই ছিলেন বিএনপির লোক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার নির্দেশেই চলছিল।

বায়তুল মোকারম মসজিদে দাড়িয়ে এক জামায়াত নেতাকে হামলার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। এ নেতাকে চিৎকার করে বলতে শুনে যায় “বৃষ্টির মতো মারো, মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী।”

২৮ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে নিজ নিজ দলের কর্মসূচিস্থলে আসতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে পল্টনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয় বিএনপি-জামাতের কর্মীরা। মূহুর্তেই লগি-বৈঠা ও লাঠি-বাঁশের মিছিলে সরগরম পুরো পল্টন এলাকা বিক্ষুব্ধ রূপ নেয়। মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। দুপুরের পর সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে পিছু হটে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয় পুলিশ। ওই সময় বেপরোয়া গুলিবর্ষণে যুবলীগের দু’জন ও যুবমৈত্রীর এক নেতা নিহত হন। গুলিবর্ষণ ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় আরও অনেক নেতা-কর্মী। প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ জনতার হাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। জামাত-শিবির তাদেরকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে।

২৮ অক্টোবরের পরের কয়েকটি সপ্তাহ রাজপথের আন্দোলন প্রবল হতে থাকে। বিএনপির গঠিত নির্বাচন কমিশনে একের পর এক রদবদল ঘটতে তাকে। মিথ্যা আর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে বিএনপি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা করছিল, সেটাও ব্যর্থ হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি আইন, গঠিত হয় ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কক্সবাজার বার্তা
কক্সবাজার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর