বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭   ১৯ রজব ১৪৪২

কদম ফলের রয়েছে পুষ্টিগুণ 

ডেস্ক রিপোর্ট

কক্সবাজার বার্তা

প্রকাশিত : ০৮:২৮ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

কদম ফুলের পাপড়ি ঝরে যাওয়ার পর গোলাকার সবুজ যে অংশ দেখা যায় তাই হচ্ছে কদম ফল। পাকলে ফলটি হলুদ হয়ে যায়। উত্তর বঙ্গের অনেক জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ এই ফল মানুষ খেয়ে আসছে। ফলগুলোর স্বাদ মাটি ভেদে কোনটি অনেক সুস্বাদু আবার কোনটি হালকা টক হয়ে থাকে। উত্তর বঙ্গের মানুষ এটিকে ফল হিসেবে খেয়ে থাকলেও দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ এটিকে ফল হিসেবে চেনেন না বা এর পুষ্টিমান সম্পর্কে তারা তেমন ওয়াকিবহাল নন।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: মারজান সরকার এই কদম ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক একটি জার্নালে (সায়েন্স পাব্লিকেশন) প্রকাশিত হয়েছে। যার লিঙ্ক http://pubs.sciepub.com/AJFN/7/1/2/index.html

তাঁর গবেষণায় পাওয়া কদম ফলের পু্ষ্টিমান হলো প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা ফ্রেশ কদম ফলে প্রোটিন : ৮৫২ মিলি গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট: ২৬ গ্রাম, লিপিড: ৩.৫ গ্রাম, ডায়াটারি ফাইবার: ১.৫ গ্রাম, সোডিয়াম ২৮৬ মিলি গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম: ৯৭ মিলি গ্রাম, পটাশিয়াম: ৩১৭ মিলি গ্রাম, আয়রন: ৮.৮ মিলি গ্রাম, বিটা কেরোটিন (ভিটামিন এ এর উপাদান): ৮.৮ মিলি গ্রাম এবং ভিটামিন সি: ৯৫ মাইক্রো গ্রাম। এছাড়াও রয়েছে লোহিত রক্ত কণিকার ভাঙন রোধ এবং বয়স ধরে রাখার মতো অনেক উপাদান। এতে কোন ক্ষতিকর উপাদান নেই।

মো: মারজান সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই কদম ফল মানুষ খায় এবং আমি নিজেও অনেক খেয়েছি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দেখলাম এই ফলের অনেক গাছ থাকা সত্ত্বেও কেউ এই ফল খায় না। তখন ভাবলাম, এটিকে ফল হিসেবে সারা দেশে প্রচলিত করার জন্য সায়েন্টিফিক কিছু ইনফরমেশন দরকার। তারপর এর উপর গবেষণা শুরু করলাম এবং অন্যান্য অনেক ফলের মতই পুষ্টিগুণ খুঁজে পেলাম। আমার গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল এই পুষ্টিকর অবহেলিত ফলকে বাংলাদেশের  মত গরীব দেশের জনগনের কছে জনপ্রিয় করে তোলা।

তাঁর এই গবেষণা কাজে যারা সহায়তা করেছেন-  দেশবরেণ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো শাহাদাত হোসাইন এবং জার্মানিতে পিএইচডিরত সিনিয়র গবেষক সুজন ভৌমিক।