রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৯ ১৪২৭   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিল যুক্তরাজ্য

কক্সবাজার বার্তা

প্রকাশিত : ০২:২৬ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

করোনা ভাইরাস সঙ্কটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যান-মেরি ট্র্যাভেলিয়ান।

বুধবার (২৪ জুন) একটি ভার্চ্যুয়াল সফরে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য কীভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ও সহায়তায় দিচ্ছে তা পরিদর্শন করেন।

ঢাকার যুক্তরাজ্য হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশে এমন ভার্চ্যুয়াল সফরে এই প্রথম যুক্তরাজ্যের একজন উচ্চ পর্যায়ের সেক্রেটারি অংশগ্রহণ করেন। মিস ট্র্যাভিলিয়ান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একইসঙ্গে মিস ট্র্যাভিলিয়ান কক্সবাজারে বাংলাদেশি স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের করোনা ভাইরাস মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সহায়তায় নির্মিত আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র কীভাবে সাহায্য করছে তা ভার্চ্যুয়াল উপায়ে পরিদর্শন করেন।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে করোন ভাইরাস মোকাবিলায় কমপক্ষে ২১ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের এই সহায়তা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে এবং করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার গতিকে কিছুটা হলেও হ্রাস করবে।

এই ভার্চ্যুয়াল সফরে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি মিস ট্র্যাভেলিয়ান ব্র্যাকের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের সহায়তায় ব্র্যাকের ৫০ হাজার কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী বাংলাদেশের পঞ্চাশ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ও করোনা ভাইরাস থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য কাজ করছে।

একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে মিস ট্র্যাভেলিয়ান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। শরণার্থী শিবিরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ঘনবসতি থাকার কারণে তা অসম্ভব। কক্সবাজারে স্থানীয় বাংলাদেশি জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করছে যুক্তরাজ্য। এ কারণে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাসের কারণে শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ৬০০টি নতুন শয্যা সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যান-মেরি ট্র্যাভেলিয়ান বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এই প্রজন্মের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সর্ববৃহৎ জরুরি অবস্থা। এই ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান করতে যুক্তরাজ্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

আমি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দারুন কিছু কাজ দেখেছি। বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এমন ভূমিকা পালন করতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অসাধারণ উদারতা ও সহায়তার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ।

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাওয়া জন্য সহায়তা প্রদান এবং রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত তাদের সহায়তা জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

মিস ট্র্যাভেলিয়ান যুক্তরাজ্যের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টীমের লিডার সারাহ কলিসের সঙ্গেও ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যুক্তরাজ্যের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টীম বাংলাদেশি চিকিৎসক ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে কাজ করছে।

মিস ট্র্যাভেলিয়ান এই ভার্চ্যুয়াল সফরে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরুরি খাদ্য বন্টন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। করোনা ভাইরাস মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ১,০০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রাথমিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং বাংলাদেশের ৫৩,০০০ মানুষের খাদ্য প্রয়োজন মেটাতে ও অর্থনৈতিক চাপ লাঘবে সাহায্য করছে।

মিস ট্র্যাভেলিয়ান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।