সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ৫ ১৪২৭   ০৩ সফর ১৪৪২

বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার বার্তা

প্রকাশিত : ১১:৪০ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০ রোববার

ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়লে দেশের ২০ থেকে ২৪টি জেলায় আবার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাকবলিত জেলাগুলোর ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যা মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছেন ডিসিরা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে- বন্যাকবলিত অনেক জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন না। ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

এদিকে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বন্যাকবলিত জেলার জন্য নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম. লালমনিরহাট, রংপুর. গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ জেলাসহ জামালপুর, ফরিদপুর ও সিলেটসহ ১২ জেলায় ইতোমধ্যে বন্যা এসে গেছে।

ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়লে দেশের ২০ থেকে ২৪টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। এবারও এই চারটি নদীর পানি বাড়বে বলে আগেভাগেই জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই ২০-২৪টি জেলার পাশাপাশি আরও ২৩টি জেলা নতুনভাবে বন্যাকবলিত হবে। এগুলো হলো- রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ। এসব অঞ্চলের জমির ফসল নষ্ট হওয়া এবং মাছের ঘের জলে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় রয়েছেন কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর খামারিরা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার থেকে চলতি সপ্তাহে ওইসব জেলায় বন্যা দেখা দিতে পারে। এসব জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এ পরিস্থিতিতে বাঁধ ভেঙে যাতে বন্যার পানি ফসলি জমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। এদিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেতরাই দড়িকিশোরপুর গ্রামে তিস্তা নদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্কুল-মাদ্রাসা বিলীন হলেও পাউবো থেকে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো বালির বস্তা ফেলা হয়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, আজ ও আগামীকাল নদনদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৪টি জেলা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। এই বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সে জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, ডিসি কার্যালয়গুলো যেন বেশিসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখে। আশ্রয়কেন্দ্রে সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় খবর রাখছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি সরাসরি ডিসিদের সঙ্গেও কথা বলছেন। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কাজেই কোনো অবস্থাতেই খাবারের সংকট হবে না।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহম্মদ রেজাউল করিম বলেন, 'এ জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখনও কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি বিপদসীমার নিচে আছে। যদিও অবিরাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির কাজ তাদের জন্য অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। সরকারি ত্রাণ প্রচুর রয়েছে, সমস্যা হবে না।'

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, 'জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কাজ করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তৈরি রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা রয়েছে।'

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড, ফারুক আহমেদ বলেন, 'সিরাজগঞ্জ জেলায় এখনও বন্যার পানি বিপদসীমার নিচে আছে। তবে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সে এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এ জেলায় ১৮৯ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, 'মানিকগঞ্জের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে উজানের পানি নেমে যাওয়ার সময় মানিকগঞ্জ প্লাবিত হয়। তবে এখনও হরিরামপুর উপজেলায় নদীভাঙন অবিরাম চলছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। তবে পাউবো কর্মকর্তাদের কাজে উদাসীনতা পাওয়া গেছে।'