বুধবার   ২১ এপ্রিল ২০২১   বৈশাখ ৭ ১৪২৮   ০৯ রমজান ১৪৪২

টেকনাফে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বনভূমি রক্ষায় জনসচেতনতামূলক সভা

কক্সবাজার বার্তা

প্রকাশিত : ১০:২৩ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার

টেকনাফের বনভূমিতে সাম্প্রতিককালে হাতি ও বন্যপ্রাণী নিধনের ঘটনায় তাদের রক্ষার জন্য শুরু হয়েছে জনসচেতনতামূলক বিশেষ প্রচারণা।

২৫ জানুয়ারী (সোমবার) সকাল ১১টায় বাহারছড়া শিলখালী বন বিভাগের আওতায় চাকমা পাড়া পাহাড়ি পাদদেশে মানুষ-হাতি দ্বন্দ নিরসন,বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ,বনজ সম্পদ এবং বনভূমি রক্ষায় বিশেষ শ্লোগান“ হাতি করলে সংরক্ষণ, রক্ষা হবে সবুজ বন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনসচেতনতামূলক এক সভা শিলখালী রেঞ্জ ও সিএমসির সহযোগিতায় সিএমসির সভাপতি দেলোয়ারের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বনবিভাগের সহযোগী সংস্থা নেচার এন্ড লাইফ প্রকল্পের সাইট কো-অর্ডিনেটর শরীফুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ূন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ফাতিমা।

উক্ত সচেতনতামূলক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন, কোডেক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, সিএমসির কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কাদের চৌধুরী মেম্বার, ফরিদ উল্লাহ মেম্বার, সিএমসি সদস্য মৌলভী ফরিদ আহমদ, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অংচাইল্যা চাকমা,প্রতা চাকমা ও সাইদসহ বন সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটি ও প্রকল্পের ভিসিএফ,সিপিসি ন্যাচারেল বন সদস্য,নিসর্গ, সিএমইসি, কোডেক কর্মকর্তাবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এতে বক্তারা বলেন, কেউ বন্যপ্রাণী হাতি হত্যা করলে ২ বছর থেকে ৭ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। তাই হাতি হত্যা থেকে বিরত থাকতে হবে। বনের হাতি দ্বারা কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে সরকার ২০ হাজার টাকা এবং নিহত হলে ১লাখ টাকা ও ক্ষেত-খামার নষ্ট করলে ২৫হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতি পুরণ দেয়। তাই হাতি লোকালে আসলে কোনভাবেই হাতিকে আঘাত করা যাবে না, এছড়া জীববৈচিত্রের বন আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে সবার উচিৎ বনের সংরক্ষণ করা। এছাড়া আমাদের সমুদ্রের কাসিম রক্ষা করতে হবে। এসব কাসিম সমুদ্রের তলদেশ পরিষ্কার রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে। এখন বন উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে বন্য পশু-পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। হাতি-শুয়র ছাড়া তেমন একটা বন্যপ্রাণী দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত। স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও সংস্থার মাধ্যমে বনের গাছপালাকে জ¦ালানি নির্ভর মানুষ রান্না কমিয়ে আনতে বাহারছড়ায় ১৬হাজার পরিবারকে প্রতিমাসে ফ্রি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শীতকালীন মৌসুমে উত্তরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এদিকে ঘুরতে আসে ; বন উজাড় হলে এসব পাখি আর আসবে না। গত কয়েক বছর আগে এই বনে কত বড় বড় গাছপলা ছিল আজ তা নেই। এছাড়া বন্য হাতি রক্ষায় হাতির খাবার হিসেবে বাঁশ, কলাগাছ পাহাড়ে রোপণ করে হাতির খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই বনে এক সময় অনেক হাতির পাল ছিল বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ছিল। এই বনের অনেক হাতি পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে চলে গেছে। এটা আমাদের প্রকৃতির জন্য বড় ধরনের হুমকির বার্তা। পাশাপাশি ঝাউগাছ সংরক্ষণের জন্য মৎসজীবীদের সজাগ থাকতে হবে। বন সংরক্ষণ করতে বন বিভাগে বসবাসরত মানুষের জন্য গৃহহীনদের মত করে ঘর দিলে বনে আর মানুষের বসবাস হবে না। তাই বনে বসবাসরত মানুষের জন্য গৃহহীন পরিবারের মত সেমি পাকা ঘরের ব্যবস্থা করতে দাবি জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান।

এছাড়া প্রধান অতিথি বলেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী চাকরির তাগিদে বছর দু’বছর থাকি এই বন স্থানীয়দের সম্পদ ; তাই রক্ষা করার দায়িত্বও স্থানীয়দের। শিলখালী বিটের সাড়ে ৭শ একর বন ভূমি রক্ষা ১২জন বন কর্মচারীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছড়া বনভূমিতে কোন ভূমি দস্যু, বন উজাড়কারী, পাহাড় খেকোদের স্থান হবে না। বনের গাছপালা উজাড় হয়ে গেছে অন্তত পাহাড় কাটবেন না। কেননা পাহাড় থাকলে অন্তত পুনরায় গাছ লাগানো যাবে। এছাড়া সমুদ্রের প্রাণীবৈচিত্র রক্ষা করতে মৎস্যজীবীদেরও সজাগ এবং দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি।